২৭ এপ্রিল পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে অনুর্দ্ধ ১৭ গ্ৰীণ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সূচনা হয়েছিল আমতা স্পোটিং ক্লাবের পরিচালনায় ক্লাব ময়দানে শিক্ষক তথা পরিবেশ কর্মী সৌর্যদীপ্ত(সঞ্জু) নস্করের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা শুরু হয়েছে ৭০-এর দশকে।
১৯৭২ সালে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করে বছরের একটি বিশেষ দিন পালিত হবে পরিবেশের জন্য। রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে পরিবেশ সম্পর্কে সেচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে ৫ জুন দিনটি পালিত হতে থাকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে। ২০২৫ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করে। অনুর্দ্ধ ১৭ তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আমতার বুকে পরিবেশ রক্ষার্থে, পরিবেশ বাঁচাতে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে, মানুষকে সুস্থ রাখতে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্ৰহণের বার্তা নিয়ে আমতা স্পোটিং ময়দান কাঁপালো গত একমাস ব্যাপী। খেলার আয়োজক আমতা স্পোটিং ক্লাব।
ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পরিবেশকে রক্ষা করার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিল মূল লক্ষ্য। গাছ না কাটা, পুকুর-নদী, খাল-বিল-এর জলকে পরিশুদ্ধ রাখা, জল সংরক্ষণ করা, নয়ানজুলি বুজিয়ে নির্মাণ কাজ না করা, প্লাস্টিক দূরিকরণ করা ইত্যাদি। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন লক্ষ্মীকান্ত নায়েক ও স্বর্গীয় দিলীপ মান স্মৃতি অনুর্দ্ধ ১৭ গ্ৰীণ কাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা আমতা স্পোটিং ক্লাবের পরিচালনায় প্রতিদ্বন্দ্বী বেতাই-জয়ন্তী অ্যাথলেটিক ক্লাব বনাম বি কে এস সি মুন্সিরহাটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হল।
চূড়ান্ত খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আমতা ১ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আদৃতা সমাদ্দার। উপস্থিত ছিলেন আমতা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, গ্ৰীণ চেন মুভমেন্ট সংস্থার কর্ণধার তথা শিক্ষক প্রদীপ রঞ্জন রীত, ফিউচার ফর নেচার ফাউন্ডেশনের সদস্য সুমন পাল, বন বিভাগ কর্মী, আমতা-জয়পুর থানা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ছাড়াও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব গুণীজন।
বর্ষণ মুখর পরিবেশে খেলার মাঠে জল জমে থাকা অবস্থায় উভয় দলের খেলোয়াড়রা পায়ে বলের শিল্প নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। আন্ডার ১৭ গ্ৰীণ কাপ প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে বেতাই-জয়ন্তী অ্যাথলেটিক ক্লাব। পরাজিত হয় বি কে এস সি মুন্সিরহাট। খেলায় উপস্থিত পরিবেশ প্রেমী ও কর্মীরা পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেন। এদিনের খেলার অংশগ্রহণকারী দলগুলির শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের পুরষ্কৃত করা হয়। খেলায় জয়ী ও পরাজিত দলকে সুদৃশ্য ট্রফি, প্রতিটি খেলোয়াড়দের হাতে আন্ডার ১৭ গ্ৰীণ কাপ স্মারক, ব্যক্তিগত পুরষ্কার, ক্যাশমানি সহ প্রত্যেক খেলোয়াড়দের হাতে একটি করে ফল গাছের চারা উপহার হিসাবে তুলে দেওয়া হয়।





