বৃষ্টির কারণে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। এছাড়াও মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষ করে হাওড়া ও হুগলি জেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতীতেও ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে এই দুই জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, যার জেরে ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছিল।
রাজ্যজুড়ে নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ডিভিসি সূত্রে খবর, মাইথন ও পাঞ্চেত সংলগ্ন এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজে জলের চাপ আরও বেড়েছে, যার কারণে অতিরিক্ত জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকার অতীতেও ডিভিসির জল ছাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে জলের পরিমাণ বাড়ায় ফের প্লাবনের আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ডিভিসি-র জল ছাড়ার ফলে হাওড়া ও হুগলি জেলায় এর আগেও বহু এলাকা জলে ডুবে গিয়েছিল, যার কারণে বহু ঘরবাড়ি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও একই রকম ভয়াবহ চিত্রের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দুই জেলার নিচু এলাকাগুলিতে ইতোমধ্যেই বৃষ্টির জল জমতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ডিভিসি-র অতিরিক্ত জলছাড়া এবং টানা বৃষ্টির ফলে সামনের দিনগুলিতে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনও গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা স্তরে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাম বাংলার নদীর ধারে অবস্থিত বিভিন্ন বসতি কেন্দ্র, বিশেষ করে গ্রাম এবং শহরতলিগুলিতে পর্যাপ্ত নিকাশি প্রণালী না থাকার কারণে বন্যা এবং প্লাবনের আশঙ্কা আরও বেড়ে উঠেছে। এই দুর্বল পরিকাঠামো বর্ষার জল দ্রুত নামাতে না পারায় জল জমার সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।





