এলাকায় খেলাধুলার প্রসারে দরকার ছিল একটি স্টেডিয়ামের। স্থানীয়দের দাবি মেনে মালদার রতুয়া-১ ব্লক সদরে স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, এলাকার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ পাবে সেই স্টেডিয়ামে। কিন্তু বর্তমানে রতুয়া স্টেডিয়ামের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। স্টেডিয়ামের গ্যালারির পাশে আগাছা জমে গেছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় মাঠের ভেতরে গোরু-ছাগল চরে বেড়ায়। ফলে দিন দিন স্টেডিয়ামের খেলার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্টেডিয়ামের দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রতুয়া-১ ব্লকে খেলাধুলার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে স্থানীয়রা রতুয়া সদরে একটি স্টেডিয়াম গড়ার দাবি জানান। সেই দাবি অনুযায়ী ২০০১ সালে তৎকালীন বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী শৈলেন সরকার রতুয়া স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় স্টেডিয়ামটি গড়ে ওঠে। তখন সেখানে নিয়মিত খেলাধুলাও হতো।
বর্তমানে স্টেডিয়ামের এক দিকের সীমানা প্রাচীর নেই। গ্যালারির নিচে আগাছায় ভরে উঠেছে। টিকিট ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে নোংরা আবর্জনা জমে রয়েছে। খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমের অবস্থাও শোচনীয়। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বসে নেশার আসর।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্রীড়াপ্রেমী দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘খেলাধুলার জন্য গড়ে তোলা স্টেডিয়ামে এখন গরু-ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। একদিকে সীমানা প্রাচীর নেই, সামনের দিকে দরজা না থাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে স্টেডিয়ামে নেশার আড্ডা বসে। ফলে বাচ্চারা খেলতে যেতে ভয় পায়।’ তাঁর বক্তব্য, এইভাবে স্টেডিয়ামের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া ঠিক নয়। প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর সম্পূর্ণ করে প্রবেশদ্বার দিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন সর্বক্ষণের কর্মী ও একজন নৈশ প্রহরী নিয়োগের জন্য ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
রতুয়া-১ ব্লকের বিডিও রাকেশ টোপ্পো বলেন, ‘স্টেডিয়ামের এক দিকের সীমানা প্রাচীর ও নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’





