অবশেষে শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ৭০ বছরের সন্ন্যাসী কর্মকার। তবু তিনি আর ফিরতে চান না একমাত্র ছেলের কাছে। ছেলের ও ছেলের স্ত্রীর হাতে দিনের পর দিন অত্যাচার ও মারধরের শিকার হয়ে শেষমেশ তিনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন যেন তাঁকে হোমে পাঠানো হয়। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সেই আবেদন মেনে নিয়ে দ্রুত হোমে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ম্যানেজার শ্যামল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সন্ন্যাসীবাবু লিখিতভাবে তাঁদের কাছে আবেদন করবেন, তারপর পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে দ্রুত তাঁকে হোমে পাঠানো হবে।
ইতিমধ্যেই স্ত্রীর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সন্ন্যাসীবাবু। কাঁপা গলায় তিনি বলেন, “হোমে পাঠিয়ে দিন, ছেলের কাছে আর ফিরতে চাই না।” উল্লেখ্য, অভাবের তাড়নায় গত শনিবার বারুইপুর স্টেশনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সন্ন্যাসীবাবু ও তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা কর্মকার (৬৫)। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরাতে স্ত্রী ঝর্ণাদেবী মারা যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় জানা যায়, একসময় গড়িয়ায় ফ্যান সারানোর কাজ করতেন সন্ন্যাসীবাবু। কিন্তু ছেলেই নাকি জোর করে তাঁদের বাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে তাঁদের ঘরছাড়া করে দেয়। এমনকি মারধর ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগও করেছেন তিনি। অসহায় হয়ে তাঁরা নবদ্বীপে চলে যান, সেখানেও পাঁচ মাস কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত অভাবের চাপে ফের বারুইপুরে এসে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
হাসপাতালের তরফে সন্ন্যাসীবাবুর আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ছেলের নাম জানালেও কোথায় থাকে তা স্পষ্ট বলতে পারেননি। ছেলের হাতে আর কোনোদিন ফিরতে চান না এই বৃদ্ধ। হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নতুন করে বাঁচার আশা দেখছেন তিনি। হাসপাতালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘এবার শুধু চাই হোমে গিয়ে একটু শান্তিতে বাকি জীবন কাটাতে।”





