ফের রক্তাক্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চালতাবেড়িয়া এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হলেন তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খাঁ। স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইকে করে আসা একদল দুষ্কৃতী আচমকাই রেজ্জাক খাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এলোপাথাড়ি কুপিয়েও জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই তৃণমূল নেতার।
রেজ্জাক খাঁ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড় এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাছাড়া তিনি ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে। এই খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে প্রবল চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা। ঘটনার খবর ছড়াতেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা রাস্তায় নেমে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি এই হামলার জন্য আইএসএফ-এর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। দলের একাংশের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সংগঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন রেজ্জাক, এলাকায় জনপ্রিয়ও ছিলেন। আর সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে দাবি তাঁদের।
তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, ‘‘আইএসএফ আশ্রিত দুস্কৃতীরা রেজ্জাককে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায়, তারপর কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে।’’ শওকত সরাসরি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর নাম টেনে অভিযোগ তোলেন, ‘‘নওশাদের মদতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’’ তাঁর কথায়, রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এলাকা ঘিরে ফেলে। শুরু হয়েছে তদন্ত। স্থানীয় থানা সূত্রে খবর, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার জন্য। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজ সেরে ভাঙড় থেকে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন রেজ্জাক খাঁ। ঠিক সেই সময়েই চালতাবেড়িয়া এলাকায় একদল দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থাতেই তাঁকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রসঙ্গত, রেজ্জাক খাঁ এলাকায় তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, এই জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন কেড়ে নিল।
খুনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙড়ের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের সরাসরি অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক শত্রুতার সম্ভাবনাই সবচেয়ে জোরালো বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খুনের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পরে তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, এই হামলার নেপথ্যে যারাই থাকুক, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হবে। অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
ফলে রাজনৈতিক শাসনকেন্দ্রিক হিংসার জন্য কুখ্যাত ভাঙড় ফের একবার রক্তাক্ত হল। সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। এলাকার মানুষ চাইছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি দিক প্রশাসন, যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।





