নিম্নচাপের প্রভাবে টানা একটানা ভারী বৃষ্টিতে ক্রমশ ফুলে উঠছে ভাগীরথী নদীর জল। তবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। শান্তিপুর সহ নদীয়া জেলার একাধিক তীরবর্তী অঞ্চলে বিশেষভাবে নজরদারি শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলির নদীভাঙনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বছর শুরু থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকেই গোটা নদিয়া জেলা জুড়ে চলছে হালকা থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। তারই প্রভাবে শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের কলডাঙ্গা এলাকায় ভাগীরথীর তীরে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। ইতিমধ্যে নদীর পাড়ের কিছুটা অংশ জলস্রোতে ভেঙে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি বড় আকার নেওয়ার আগেই ইরিগেশন দপ্তরের প্রতিনিধিরা বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সরেজমিনে এলাকায় যান শান্তিপুর বিধানসভার বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শান্তিপুর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ, রানাঘাট এসডিও সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। তারা ভাঙন শুরু হওয়া স্থানগুলি ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এদিকে হরিপুর পঞ্চায়েতের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ভাগীরথীর তীরে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে ঘিরে প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে।
অতীতে এই এলাকায় নদীভাঙন ও জলমগ্ন অবস্থার কারণে বহু পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারে আগেভাগেই পদক্ষেপ নিতে মরিয়া প্রশাসন। সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ ও রানাঘাট এসডিও জানান, পরিস্থিতি যদি জটিল আকার ধারণ করে, তাহলে জলমগ্ন এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ, খাবার ও আশ্রয় সহ সমস্ত রকম সাহায্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী জানান, প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপরতায় রয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।





