কলেজ স্কোয়্যার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালি নিপীড়নের প্রতিবাদে এই মিছিল থেকে সর্ব ধর্ম সমন্বয়েরও বার্তা দিলেন মমতা।
মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে মমতা-অভিষেকদের সঙ্গে হাঁটতে দেখা গেল এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং এক মুসলিম মৌলবীকে। মমতা-অভিষেকদের একে বারে ডান দিকে হাঁটলেন তাঁরা। পরে ডোরিনা ক্রসিংয়ের মঞ্চে পৌঁছে যখন সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন মমতা, তখনও আলাদা করে এই দু’জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এর মধ্যে দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলার ঐক্য এবং সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে চেয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মিছিলের সামনের সারিতে মমতা-অভিষেকদের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মন্ত্রীরাও ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। ছিলেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারপার্সন সব্যসাচী দত্ত, যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যায় মিছিলে মমতা-অভিষেকদের সঙ্গে। ডোরিনা ক্রসিংয়ের মঞ্চে মমতা-অভিষেকদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কেও।
মিছিল শেষে মমতার প্রায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় সিংহভাগ জুড়েই রইল বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকার গোপনে একটি বিজ্ঞপ্তি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে পাঠিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ মমতার। তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ওই বিজ্ঞপ্তির ফলেই বাঙালিদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারত সরকার একটি নোটিফিকেশন করেছে।
সেই নোটিফিকেশনটা আমরা চ্যালেঞ্জ করব। লুকিয়ে লুকিয়ে (নোটিফিকেশনটি) করেছে এবং যেখানে যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে পাঠিয়েছে। তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যাকেই সন্দেহ হবে, বাংলায় কথা বলে, অ্যারেস্ট করবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে (হোল্ডিং এরিয়ায়) রেখে দেবে।” এমনকি কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও তাঁদের এই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ মমতার। তিনি বলেন, “ভারত সরকার এবং বিজেপির এই আচরণে আমি অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত, দুঃখিত এবং মর্মাহত।”





