নামবেন দুপুর দুটোয় অন্ডাল এয়ার বেসে।সেখান থেকে সড়কপথে আসবেন দুর্গাপুরে। অনেকটা রোড শো করার মত।মোদির কনভয়ে হবে পুষ্প বৃষ্টি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও থাকছে। অন্ডাল এয়ার বেস থেকে ভারতীয় বাহিনীর হেলিকপ্টার ও প্রস্তুত থাকবে। শেষ পর্যন্ত এসপিজি যে নির্দেশ দেবে সেই মত কাজ হবে। তবে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আসবেন তাই জরুরী ভিত্তিতে রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।
এসপিজির একটি বিশাল দল ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে দুর্গাপুরে। স্নিফার ডগ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আনা হয়েছে বুলেট প্রুফ গাড়িও। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এবং বেশ কিছু জাতীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপুর সফরের জন্য আগেই পৌঁছে গিয়েছেন।
এবার বিজেপি অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তা হল দুর্গাপুর বেনাচিতি অঞ্চলে প্রত্যেক বাড়িতে কাল সকাল ন’টা থেকে দশটা পর্যন্ত প্রচার করবেন সুকান্ত মজুমদার। দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রচার পত্র নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। বিজেপির এই কর্মসূচিকে তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করে বলেছে প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোক হবেনা। তাই এই ব্যবস্থা করেছে বিজেপি।
অপরদিকে বিজেপির পাল্টা যুক্তি প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ আমরা গড়ে তুলছি। এদিন প্রধানমন্ত্রী চাঁদ প্রশাসনিক সভা থেকে কে রাজ্যের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। স্মরণকালের মধ্যে এত টাকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প এ রাজ্যের জন্য আসেনি। তৃণমূল বলছে এ সবই ভোটের কারণ। তার পাল্টা আবার বিজেপি বলছে তৃণমূল কি সবটা ভোটই দেখে। রাজনৈতিক চাপাল উত্তর যাই হোক না কেন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের উদ্বোধন হতে চলেছে শুক্রবার।
এরমধ্যে রয়েছে ১৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া গ্যাস প্রকল্প। দুর্গাপুর থেকে হলদিয়া পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন। যার মধ্যে দুর্গাপুর থেকে কলকাতা ১৩২ কিলোমিটার বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সরবরাহ করার পাইপলাইন প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ভাই হয়েছে ১১৯০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদনের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে। তাই নরেন্দ্র মোদির হাত দিয়ে উদ্বোধন হবে রঘুনাথপুর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্লু গ্যাস উৎপাদন। এর সঙ্গে পুরুলিয়ার মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কোটশিলাব ও পুরুলিয়ার মধ্যে রেলের ডবল লাইন। শেষ পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার ওই রেলপথের কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে সেই প্রকল্প উদ্বোধন হবে।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের টপসি থেকে পান্ডবেশ্বর পর্যন্ত দুটি উড়ালপুলের উদ্বোধন করবেন। এই দুটি উড়ালপুল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। এরপর বিকেল তিনটে দুর্গাপুরের বেরু স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জনসভা।
গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রচার করা হচ্ছে যে পশ্চিম বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা অন্য রাজ্যতে কাজ করতে গিয়ে বাংলায় কথা বললেই তাদের বাংলাদেশী বলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। রাতের অন্ধকারে ওইসব ব্যক্তিদের জোর করে ওপার বাংলায় পাঠানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে বাংলার প্রতি বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন তা নিয়ে তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল। সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে ১০০ দিনের কাজের টাকা এক আগস্ট থেকে দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। এমনকি ওই কাজ শুরু করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কি বলতে চান তাও শুনতে আগ্রহী বাংলা। শিক্ষক নিয়োগ থেকে একের পর এক দুর্নীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ এইসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোন পদক্ষেপ করতে চাইছে কিনা তাও শুনতে চায় বাংলা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে।
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই ভোল্টেজ সভাতে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে দিলীপ ঘোষকে কোন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পশ্চিম বর্ধমানের তার অনুগামী কিছু নেতা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন দিলীপ বলেছিলেন আমি দুর্গাপুরে যাব। প্রশ্ন ওঠে দিলীপ ঘোষ কি মঞ্চে উঠতে পারবেন। রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। পরে জানা যায় দিলীপ ঘোষ দুর্গাপুরে গিয়ে মোদির বক্তব্য শোনার পর ফিরে আসবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে জানা গিয়েছে দিলীপ ঘোষ দুর্গাপুর জনসভায় যাচ্ছেন না। কারণ রাজ্য নেতৃত্বের তরফে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।





