ওড়িশার পর এবার চেন্নাইয়ে শারিরীক নিগ্রহের শিকার হলেন মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়ার চার পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মারধর করে এবং তিনজনের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আতঙ্কিত ওই চার যুবক স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে তড়িঘড়ি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
শুক্রবার সকালে তাঁরা গুধিয়ার বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এদিন দুপুরে তাঁরা লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করান।
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ থানার তেঁতুলিয়া পঞ্চায়েতের গুধিয়ার চার যুবক মিলন শেখ, সুজন শেখ, ইসমাইল শেখ ও সিরাজুল শেখ চেন্নাইয়ে একটি নির্মাণ সংস্থার অধীনে জোগাড়ের কাজ করতে যান। বুধবার সকালে কাজ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ব্যাপক মারধর করে।
মারধরের ঘটনায় সুজন শেখের হাত ভেঙে যায়। মিলন শেখের মাথা ফাটার পাশাপাশি দুটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাকি দুজনকেও মারধর করা হয়। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। সুজন শেখ বলেন, “গত একমাস ধরে কাজ করছিলাম। বুধবার সকালে কাজ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন এসে আমাদের নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বলতেই ওরা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় এখানে কাজ করা যাবে না। তখনই চেন্নাই ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় ওরা। আমরা প্রতিবাদ করতেই তাঁরা আমাদের উপর চড়াও হয়।”
অভিযোগ শক্ত ও ভারী বস্তু দিয়ে চারজনকে মারধর করতে শুরু করে চেন্নাইয়ের ওই দুষ্কৃতিরা। এতে ডান হাত ভেঙে যায় সুজনের। মিলনও গুরুতরভাবে জখম হয়। এরপরেই মিলন বাদে বাকি তিনজনের থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মিলন শেখ বলেন, “ওই ঘটনার পর চেন্নাইয়ে থাকার আর সাহস দেখাতে পারিনি। হাসপাতাল থেকেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই।”





