- Advertisement -spot_img
Homeরাজনীতিদ্বিতীয়বারের জন্য বঙ্গ সফরে এসে একেবারে কল্পতরু মোদি

দ্বিতীয়বারের জন্য বঙ্গ সফরে এসে একেবারে কল্পতরু মোদি

- Advertisement -spot_img

দেড় মাসের কম ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের জন্য বঙ্গ সফরে এসে একেবারে কল্পতরু দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুরের নেহেরু স্টেডিয়ামে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বাংলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন ও উৎসর্গ করেন। যার মধ্যে রয়েছে রেল, গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ ও সড়ক। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বিমান অন্ডালে বিমানবন্দরে নামার সময় ছিলো দুপুর ২ বেজে ৩৫ মিনিটে। সেই মতো দুটোর সময় সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক।

 

কিন্তু প্রায় ১ ঘন্টা পরে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বায়ুসেনার বিশেষ বিমান অন্ডালে আসে। এরপরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কনভয় সড়কপথে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। গান্ধী মোড়, সিটি সেন্টার হয়ে চারটে নাগাদ নেহেরু স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে সরকারি প্রকল্পের জন্য আলাদা মঞ্চ করা হয়েছিলো। তাকে প্রথমে উত্তরীয় পরিয়ে ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেই অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাঁচটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন ও উৎসর্গ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদিন যে পাঁচটি প্রকল্প শুরু হলো, তা বাংলার জন্য অভুতপূর্ব। বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশে গত কয়েক বছরে রেল, এয়ারপোর্ট সবক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। ভারতের বিকাশে এই দুর্গাপুরের বড় ভূমিকা রয়েছে।

 

এই দুর্গাপুর শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। শ্রমশক্তির কেন্দ্রও এই দুর্গাপুর। তিনি আরো বলেন, এদিন যে গ্যাস পাইপলাইনের কাজ শুরু হলো, তাতে এই বাংলার কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। ‘ওয়ান নেশন-ওয়ান গ্যাসে’। মোট ৬টি রাজ্যে গ্যাসের পাইপলাইন গেছে। বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাসের লাইন যাবে। শিল্প ক্ষেত্রে এই গ্যাস যাবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে সিএনজি গ্যাসে আরো বেশি করে গাড়ি চলবে এইসব এলাকায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত। এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ম্ময় সিং মাহাতো। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

 

এদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হলো বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় সিজিডি প্রকল্প। সিজিডি প্রকল্পটিতে মোট ১,৯৫০ কোটি টাকা ব্যায় করার মাধ্যমে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার ৫,৫৫,৯৯৯ টি বাড়িতে পাইপযুক্ত ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ, ২৫০+ বাণিজ্যিক এবং ৩৫+ শৈল্পিক গ্রাহকদের সরবরাহ করা এবং পিএনজিআরবি-এর অনুমোদিত এমডব্লিউপি (ন্যূনতম কর্মসূচী) লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে যানবাহন জ্বালানির জন্য ২৯টি সিএনজি স্টেশন স্থাপন করা হবে।

 

 

বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার এই সিজিডি প্রকল্পটি ২০৩০-এর ১৫ই মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্যগুলি হল গৃহস্থালি, ব্যবসায়িক এবং শিল্প গ্রাহকদের পিএনজি সংযোগ প্রদান, যানবাহনের জ্বালানির জন্য সিএনজি স্টেশন স্থাপন এবং একটি শক্তিশালী গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ইস্পাত পাইপলাইন স্থাপন করা। বিপিসিএলের চেয়ারম্যান ওম্যানেজিং ডিরেক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টর (রিফাইনারিজ) সঞ্জয় খান্না বলেন, এই প্রকল্পটি ভারতের প্রতিটি কোনায় পরিষ্কার, সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি সরবরাহের আমাদের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করা।

 

এটি বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় নাগরিকদেরকে শক্তিশালী করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে এবং ভারতের জ্বালানি স্বাধীনতা এবং পরিবেশগত রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই প্রকল্পের ফলে আশেপাশের এলাকা, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বায়ু দূষণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে ঐতিহ্যবাহী জ্বালানির পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাসকে একটি পরিষ্কার বিকল্প হিসেবে প্রচার করে, যা ভারতের নেট-শূন্য নির্গমন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুমান করা হচ্ছে যে, প্রকল্পটি ২৫ বছরের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ২৭ শতাংশ বা ১৯১ টিএমটি কমাবে।

 

 

প্রকল্পের ২৫ বছরের সময়কালে, এটি বছরে ৩.৪৬ লক্ষ গাছ এবং ৮৬.৮ লক্ষ গাছ লাগানোর সমান। এই প্রকল্পটি বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলেও আশা করা হচ্ছে, যার ফলে প্রায় ১৫ লক্ষ কর্মদিবসের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরী হবে। এই জেলাগুলিতে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হওয়ার পরে, ৬৫ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা একটি সুবিধাজনক, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশগতভাবে দায়ী জ্বালানি সরবরাহ থেকে উপভোগ করতে পারবেন। সিজিডি প্রকল্পটি একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে, এই জেলাগুলিতে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করবে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here