২১শে জুলাইয়ের আগে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এরই মাঝে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দুর্গাপুরে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারের ওই জনসভা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। সরাসরি নিশানায় তুলে আনলেন মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাও।
সভা থেকে মোদী বলেন, মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় দাঙ্গা হলে পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করে। একতরফা তদন্ত চলে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এই রাজ্যে তৃণমূলের গুন্ডাগিরির জন্যই কোনও উদ্যোগপতি বিনিয়োগ করতে সাহস পান না। সিন্ডিকেটরাজ দেখেই তারা পালিয়ে যান।
তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রাথমিক শিক্ষা হোক বা উচ্চশিক্ষা সবই তৃণমূল জমানায় ধ্বংসের মুখে। এমনকি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পর্যন্ত নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এই সরকার। মোদী বলেন, এই রাজ্যের সরকার যেখানে মানুষের দোকান বাঁচাতে পারে না, সেখানে উদ্যোগপতিদের কীভাবে নিরাপত্তা দেবে? বিনিয়োগ আসবে কীভাবে?
দুর্গাপুরের মঞ্চ থেকেই বারবার উঠে আসে “সিন্ডিকেটরাজ”, “গুন্ডাগিরি”, “আইনশৃঙ্খলার অবনতি”-র মতো শব্দ। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূল শাসিত বাংলায় প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট, এবং তা সরাসরি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলার উন্নয়ন থমকে গেছে বলেও দাবি তাঁর।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেই এই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে। “তৃণমূলকে সরাতেই হবে” বলে সাফ বার্তা দেন তিনি।
এদিকে, মোদীর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে তরজা। তৃণমূল কংগ্রেস মোদীর মন্তব্যকে ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। শাসক দলের দাবি, মোদীজির কাছে দেশজুড়ে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক আত্মহত্যা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই। তিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মিথ্যে প্রচার করে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছেন।
২১ জুলাইয়ের আগে মোদীর এই হঠাৎ সফর এবং তৃণমূল বিরোধী মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপে রয়েছে রাজ্য শাসক দলও। একদিকে তারা প্রস্তুত হচ্ছে শহিদ দিবস উপলক্ষে বিরাট জমায়েতের, অন্যদিকে বিজেপি চাইছে ময়দানে থেকে পাল্টা বার্তা দিতে।





