রাজ্য সরকার টাকা দেয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অধ্যাপকদের বেতন কর্মীদের বেতন দেওয়াটা রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। শনিবার রাজভবনে উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এবং তাদের অধীনের কলেজগুলির কি অবস্থা এইসব জানতে চেয়ে শনিবার বৈঠক দেখেছিলেন রাজ্যের 29 টি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠকে হাজির হয়। বাকিরা আসেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জরুরি কাজের কথা জানিয়েছেন। কার জন্য আবার রাজ্যপালের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে চেয়েছেন।বাকিরা যারা আসেননি কোনো কারণ না দেখিয়ে তাদের বলা হয়েছে না আসার কারণ নিয়ে যোগ্য জবাব দিতে হবে। সেই জবাব যদি বিশ্বাসযোগ্য হয় সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। কিন্তু যারা যোগ্য জবাব দিতে পারবেন না তাদের আগামী দিনে রাজভবনে ঢোকা নিষিদ্ধ থাকবে। যতক্ষণ না তারা যোগ্য জবাব দিতে পারছেন।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাকাউট,সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডায়মন্ড হারবার বিশ্ববিদ্যালয়। ওই বৈঠকে রাজ্যপাল উপাচার্যদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের অধীনস্থ প্রত্যেকটি কলেজে ছাত্র ছাত্রীদের পঠন পাঠনের উপর নজরদারি রাখতে। এছাড়া বিভিন্ন কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দিতে। কারন কোনোভাবেই কলেজে আর অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সাউথ কলকাতা ল কলেজের ঘটনার পর রাজ্যপাল কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এদিনে বৈঠকে তিনি পঠন পাঠন থেকে শুরু করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টি ও তুলেছেন। সেই সঙ্গে উপাচার্যদের তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা দেওয়ার। এটা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই আপনাদের বলছি আর্থিক অবরোধের যদি হুমকি দেওয়া হয় আপনারা ভয় পাবেন না। যা করার আমি করব। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে উপাচার্যদের নিয়োগ নিয়ে মামলার শুনানি রয়েছে।





