বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানার গুরুগ্রামে আটক হওয়ার পর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন মালদার সাত যুবক। কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাসের পাশাপাশি এখন বড় প্রশ্ন এলাকায় ফিরে কি খাবেন তাঁরা? সংসার চলবে কী করে? রাঙ্গাইপুর ঠাকুরটোলার ওই সাত পরিযায়ী শ্রমিক পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন হরিয়ানায়।
কিন্তু গুরুগ্রামের পুলিশ তাঁদের ধরে নিয়ে যায়, সন্দেহ তাঁরা বাংলাদেশি। সেই অভিযোগে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে তাঁদের উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য সরকারের তরফে তৎপরতা শুরু হয়। বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন সরাসরি কথা বলেন হরিয়ানা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে। জেলাশাসককেও দেন পদক্ষেপের নির্দেশ। রবিবার সন্ধ্যায় মুক্তি পান শ্রমিকরা। তবে মুক্তির পরেও ঘরে ফেরা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আর তাঁরা বাইরে কাজ করতে যাবেন না। কিন্তু এলাকায় কাজের হাহাকার, সংসার চালানো দায়। সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁদের পরিবার।
এদিন তাঁদের বাড়িতে যান বিধায়ক তাজমুল হোসেন। জানান, রাজ্য সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছে। এখানেই থেকে জীবিকা গড়ে তোলার আশ্বাসও দেন তিনি। যদিও পরিবারের লোকেদের একটাই প্রশ্ন এতদিনে কেন এই ব্যবস্থা নেওয়া হল না? কেন এলাকায় কাজ নেই? এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল ভোটের আগে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। রাজ্যে কাজ নেই, তাই হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে বাইরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। আবার, ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে। এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আর মাঝখানে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এখন দেখার, সরকারী আশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ পায়।





