গ্ৰামীণ হাওড়ার শ্যামপুর ২ নং ব্লকের মৌলা নেতাজী হাই স্কুলে ৯ বছর আগে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরী ছাত্রাবাস উদ্বোধন হয়েছিল। ছাত্রাবাস তৈরী ও উদ্বোধন হলেও আজ পর্যন্ত ঐ ছাত্রাবাসে থাকার জন্য কোনো ছাত্র আসেনি। ছাত্রাবাস তৈরী ও উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই ছাত্রাবাসটি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছাত্রাবাসের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রসঙ্গে অভিযোগের সুরে বলেন, ছাত্রাবাসের দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়ায় সেই ফাঁক দিয়ে দুষ্কৃতীরা ছাত্রাবাসের ঘরে ঢুকে নানান অসামাজিক কাজকর্ম করছে। এর প্রমাণ ঘর গুলোতে গেলেই দেখা যায়।
রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ২০১৩ সালে এই ছাত্রাবাসটি তৈরী হয়েছিল। ছাত্রাবাসটি তালাবন্ধ অবস্থায় প্রথম থেকেই পড়ে থাকা প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন সেলের আধিকারিক মহুয়া বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ছাত্রাবাসটিকে কিভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়টি শ্যামপুর ২ নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে দেখতে বলা হয়েছে’। সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জু গুহ মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছাত্রদের থাকার অনীহার কারণেই এটাকে ছাত্রাবাস হিসাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এটিকে স্কুলের শ্রেণীকক্ষ হিসাবে যাতে ব্যবহার করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে’। শ্যামপুর ২ নং ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৌলা নেতাজী হাই স্কুলে সংখ্যালঘু পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক।
এই পড়ুয়ারা যাতে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতে পারে সেই চিন্তা ভাবনা করেই ২০১৩ সালে এই স্কুলে দোতলা ছাত্রাবাসটি তৈরী শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালে ছাত্রাবাসের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবনির্মিত ছাত্রাবাসটি উদ্বোধন করেছিলেন। ছাত্রাবাসে ছাত্রদের থাকার জন্য শয্যাও পাতা হয়েছিল। ছাত্রদের রান্না ও খাওয়ার জন্য রান্নার নানান প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, খাওয়ার জন্য বাসনপত্রও কেনা হয়েছিল। ছাত্র বিহনে সেই সব নষ্ট হয়ে গেছে।
ছাত্রাবাস তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা প্রসঙ্গে শ্যামপুর ২ নং ব্লকের কংগ্রেস নেতা আতিয়ার খান বলেন, ‘ছাত্রাবাসটি তৈরী করার আগে কোনো পরিকল্পনা করে নি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ফলে সরকারের এত টাকা জলে গেল’। ঐ স্কুলের কর্মী তথা হাওড়া জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জুলফিকার মোল্লা মৌলা নেতাজী হাই স্কুলে ছাত্রাবাস তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ওই ছাত্রাবাসটি বিকল্প কাজে লাগানোর জন্য চিন্তা ভাবনা করছি।





