- Advertisement -spot_img
Homeরাজনীতিবাংলার মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি - মমতা

বাংলার মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি – মমতা

- Advertisement -spot_img

বুধবার বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালীদের অপমানের বিরুদ্ধে ঝাড়গ্রাম শহরে তিন কিলোমিটার ভাষা আন্দোলনের পদযাত্রার শেষে ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচ মাথার মোড়ে এক সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সভা মঞ্চ থেকে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বলেন, বাংলার মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি। তাই যারা বাংলার বদনাম করার চেষ্টা করছে, তাদের কে তিনি সতর্ক করে দেন।

 

ভাষণে বলেন, বাংলার মানুষ ভালো আছেন ও শান্তিতে আছেন, বাংলায় এনআরসি হতে দিচ্ছি না দেব না। এনআরসি’র নাম করে ওরা বাংলার মানুষকে জেলে রাখতে চায়। বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা বলে তকমা এঁটে দেওয়া হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিরসা মুন্ডা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ সহ বাংলার মনীষীরা বাংলাতে কথা বলতেন। বাংলা না থাকলে বিশ্ব ও ভারত বর্ষ হয় না, আসাম থেকে কোচবিহারে এনআরসি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

 

আসামে ৭ লক্ষ বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন, আপনার ঠিকানা আপনাকে রক্ষা করতে হবে। কেন্দ্র অফিসার ও পুলিশদের ভয় দেখাচ্ছে। তিনি বিজেপিকে বসন্তের কোকিল বলে আখ্যা দেন। নির্বাচন কমিশনকে তিনি বলেন আমি নির্বাচন কমিশনকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু অমিত শাহের দালালি করবেন না, অমিত শাহ কি তার বার্থ সার্টিফিকেট দেখাতে পারবে। বিজেপি শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে, শুধু বিজেপি খাবে আর সবাই বাদ যাবে। আমি ভোট চাইতে আসিনি, আপনারা আপনাদের ভোট কাকে দেবেন সেটা আপনারা ঠিক করবেন। যারা বাংলার বাইরে আছেন তারা বাংলায় ফিরে আসুন তাদের পাশে বাংলার প্রশাসন রয়েছে। এনআরসি’র ভয়ে মানুষ আত্মহত্যা করছে। স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা পথ দেখিয়েছিল।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিজেপি কোথায় ছিল। চালাকির দ্বারা কোন মহৎ কাজ হয় না। রক্ত, কলিজা দেবো, জমি দেব না। এনআরসি’র নাম করে চিঠি দিয়ে ডাকলে কেউ যাবেন না। বাংলা ভাষা নিয়ে মন্তব্য করার জন্য বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর নাম না করে তাকে মালপোয়া বলে তিনি কটাক্ষ করেন। যদি বাংলার প্রকৃত একজন ভোটারের নাম কেটে বাদ দেওয়া হয় তাহলে তিনি সারা বিশ্ব ভ্রমণ করবেন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বিজেপির মুখোশ তিনি খুলে দিবেন। ১৯৯২ সালে যখন স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে বেলপাহাড়ি এসেছিলেন, তখন এখানকার মানুষ কি খেয়ে বেঁচে ছিলেন তা তিনি দেখেছেন, মানুষ পিঁপড়ে খেয়ে বেঁচে ছিলেন, গাছের শিকড় সিদ্ধ করে খেয়েছিলেন।

 

তাই ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই আমি খাদ্য সাথী প্রকল্প চালু করি। তিনি বলেন, আবাসের টাকা দেয়নি কেন্দ্র সরকার, ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা দেয়নি, রাস্তা তৈরীর টাকা দেয়নি, আবার স্বাস্থ্য মিশনের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাতেও আমরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। আমি হিংসায় বিশ্বাস করিনি, কাজে বিশ্বাস করি, উন্নয়নে বিশ্বাস করি মানুষের পাশে থেকে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, আমি ধর্ম জাতপাত নিয়ে রাজনীতি করি না। আমি চাই সকল ধর্মের মানুষ হাঁসিমুখে একসঙ্গে বসবাস করুক।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here