কন্যাশ্রী প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পেয়ে এই রাজ্যের অনেক মেয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং অধ্যাপক হয়েছে। এই মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন কিছুদিন আগে আমি একটি সমীক্ষা করিয়েছিলাম। সেখান থেকেই এইসব তথ্য মিলেছে। কন্যাশ্রী প্রকল্প এরাজের মেয়েদের স্বাবলম্বী হতে শিখিয়েছে। তারা সমাজের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
আগামী দিনে যে নতুন বাংলা গড়ে উঠবে এরা তার কান্ডারী। কত বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামে আদিবাসী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য পরিবেশন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি কন্যাশ্রী প্রকল্প রাজ্যের মেয়েদের বড় হওয়ার সাহস এনে দিয়েছে। খেলাধুলাতে মেয়েরা এই রাজ্যের উজ্জ্বল করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন বাংলার একাধিক মেয়ে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে তারা সাফল্য এনে দিয়েছে দেশকে।
এদেরই একজন হলেন রাজশ্রী হাঁসদা।বর্তমানে জাতীয় স্তরে রেফারি। সারাদেশে জুনিয়র এবং সাব জুনিয়র ফুটবল প্রতিযোগিতায় রাজশ্রী রেফারি হয়েছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি পুরস্কার নিয়ে বলেন, আমাদের আদিবাসী একাডেমিতে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু তাদের বাবা এবং মায়েরা তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। এইভাবে তারা মাঝপথে হারিয়ে যাচ্ছেন। একথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন আমি ওদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। মুখ্যমন্ত্রী তখন মুখ্য সচিব কে বলেন আপনি দেখুন এরা যাতে একাডেমিতে থেকে খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারে। রাজশ্রী জানিয়েছেন একাডেমিক খেলোয়ারদের মুখ্যমন্ত্রী সিভিক ভলেন্টিয়ার এর চাকরি করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি আপ্লুত। গোপীবল্লভপুর এর প্রত্যন্ত এলাকার রাজশ্রী দের বাড়ি।
বাবা মা দিদি এবং দাদাকে নিয়ে সংসার। স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে রাজশ্রী এখন কলেজে শরীর শিক্ষা নিয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশুনা করছে। স্কুল জীবন থেকেই তার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। তখন থেকেই ফুটবল খেলা। এরপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং পরীক্ষা দিয়ে জাতীয় স্তরে রেফারি। সাধারণভাবে পরিবারটি চাষ করে দিনযাপন করে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সিভিক ভলেন্টিয়ার এর পদে নিযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আনন্দিত রাজশ্রীরা। তিনি বলেন এভাবে মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রেরণা দিলে বহু ছেলে এবং মেয়ে আগামী দিনে খেলা ধুলো করতে এগিয়ে আসবে। অন্তত ভালো খেলোয়াড় হলে সরকারিভাবে চাকরির সুযোগ পাওয়া যাবে।





