ভূতের দৌরাত্ম্য স্কুল চত্বরে। আর সেই কারণেই পড়াশোনার লাটে ওঠার জোগাড় স্কুলে। ভূতের ভয়ে স্কুলে আসতে চাইছে না স্কুলের পড়ুয়ারা। এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইটাহার ব্লকের অন্তর্গত বাড়িওল রইসউদ্দিন আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে।
সূত্র মারফত জানা গেছে কিছুদিন আগে ওই বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। তার স্মৃতির রক্ষার্থে শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক গাছের চারা রোপণ করেন। আর তা থেকেই নাকি ভূতের উপদ্রব শুরু হয়েছে বিদ্যালয়ে।
এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত ওই স্কুলের পড়ুয়ারা। ভয়ের কারণে বিভিন্ন রকম শারীরিক অসুবিধাও দেখা যাচ্ছে। স্কুলে যেতে চাইছে না অনেকেই। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষা চলছে বলে সকলে আসছে, কিন্তু পরীক্ষা শেষ হলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘ভূত তাড়ানোর’ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন শিক্ষকেরা বলে জানান তারা।
বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘এক ছাত্রী শ্বাসকষ্টে মারা যায়। তারপর আমাদের এক স্যার ওর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি আমগাছ লাগায় ও তাতে ওই ছাত্রীর একটি ছবি আঁকিয়ে টাঙায়। তারপর থেকেই এই ঘটনা শুরু হয়। ওই ছাত্রীর যারা বন্ধু ছিল, প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবাই বলছে ওই ছাত্রীটি ওর বন্ধুদের ধরছে।’
এক অভিভাবক নেহারুল হক বলেন, ‘স্কুলে গেলে ভূত ধরছে মেয়েগুলোকে। স্কুলে গিয়ে পাগলের মতো করছে, অসুস্থ হয়ে পড়ছে শ্বাসকষ্টে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেও সুস্থ হচ্ছে না। ওদের ঝাড়ফুঁক করাতে হচ্ছে। এখন আর কেউ স্কুলে যেতে চাইছে না। পীরবাবা এসে কাজ করছে।’
যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার কথায়, এ ধরনের কোন অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তিনি বলেন, ‘স্কুলে এই ধরনের কোন ব্যাপার নেই। এখন স্কুলে পরীক্ষা চলছে। ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার স্বাভাবিক রয়েছে। ছাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক, অসুস্থতার কারণে মারা গেছে তারা। ভূতের আতঙ্ক বলে কিছু নেই।’
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য গৌতম সিনহা জানান, ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগে এ ধরনের চিন্তাভাবনা খুবই দুঃখজনক। তার কথায়, ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সেলিং ও এই আতঙ্ক দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।





