মালদা শহরের গৌড় রোডের নিজস্ব চেম্বারে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন দাঁতের চিকিৎসক শুভঙ্কর ধারা। ঘটনায় শহরের চিকিৎসক মহল ও স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা চলছে।
শুভঙ্কর ধারা সিঙ্গাতলার বসুন্ধরা গ্রীন অ্যাপার্টমেন্টে বাবা-মা ও একমাত্র বোনের সঙ্গে থাকতেন। শান্ত স্বভাবের এই চিকিৎসক চিকিৎসার পাশাপাশি কবিতার বই লিখতেন। আগামী নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। শনিবার ভাইফোঁটার দিন বোন শ্রেয়া ধারাকে আশীর্বাদ দেওয়ার পর তিনি চেম্বারে রোগী দেখতে যান। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চেম্বারে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠায়।
শহরে গুজব ছড়িয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত কারণে তিনি চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, হবু স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে মৃতের পরিবার এই দাবি অস্বীকার করেছে। আবার অনেকে বলছেন, দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে পাঁচ বছর আগে পাশ করলেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন।
মৃতের বাবা জয় শংকর ধারা জানান, ছেলে শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং কারও সঙ্গে ঝগড়া করতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটালেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বোন শ্রেয়া ধারা বলেন, ভাইফোঁটার দিনও তিনি তাঁকে রাখি পরিয়েছেন, তবে চাকরি না পাওয়ায় তিনি খুব হতাশ ছিলেন। বসুন্ধরা গ্রীন অ্যাপার্টমেন্টের প্রেসিডেন্ট নবেন্দু সরকার বলেন, শুভঙ্কর ধারা ভদ্র ও সংযত মানুষ ছিলেন, হঠাৎ তাঁর এই মৃত্যু অবিশ্বাস্য।
ইংলিশবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রজু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এই অকাল মৃত্যুতে মালদা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর চিকিৎসক মহলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।





