পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নাম্বার ব্লকের রসকুন্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাবাঁদি গ্রামে কোনরকম টেন্ডার ছাড়াই নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল রসকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েত ও গড়বেতা তিন নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে। স্থানীয় স্তরে অভিযোগে সরব স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রাজা চক্রবর্তী। তার বক্তব্য অনুসারে কোনরকম টেন্ডার ছাড়া ১৪ শতাংশ কাটমানি নিয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত তিন লক্ষ টাকা খরচ করে ১০০ মিটার ও পঞ্চায়েত সমিতি সাত লক্ষ টাকা খরচ করে গার্ড ওয়াল সহ২০০ মিটার ঢালাই রাস্তা নির্মাণ করেছে। কিন্তু এই রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের খুব কাছের প্রিয় একজন ঠিকাদারকে দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির পুর্ত কর্মাধ্যক্ষের বৌদি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সেই সূত্রে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ২০০ মিটার সহ মোট রাস্তাটি ৩০০ মিটার নির্মাণ করা হয় ঠিকাদার সংস্থার তরফে। এলাকায় অভিযোগ পঞ্চায়েত সমিতির পুর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান একই পরিবারের হওয়ায় স্থানীয় অঞ্চলের সমস্ত কাজেই গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই কাটমানি থেকে শুরু করে পূর্ত দপ্তরের উন্নয়নে দুর্নীতি করতে বিশেষ সুবিধা হচ্ছে তাদের।
কোনরকম টেন্ডার না হওয়ায় প্ল্যান এবং এস্টিমেট তৈরি ছিল না রাস্তাটির তাই রাস্তাটির গুণগত মান যে সম্পূর্ণ নিম্নমানের সেকথা মানছেন স্থানীয় স্তরের নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য ওখানকার এলাকার মাটি অত্যন্ত নরম তাই রাস্তাটি আরেকটু ভালোভাবে শক্ত করে বানানো যেত লক্ষাধিক টাকা খরচ করে অত্যন্ত নিম্নমানের রাস্তা তৈরি করার কোন প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। ওই গ্রামে রাস্তার প্রয়োজনীয়তা ছিল গ্রামবাসীদের মধ্যে রাস্তা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এ রাস্তা নির্মাণে তারা খুশি বলে জানা গেছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে জলকাদা পেরিয়ে আমাদের শহরে যেতে হতো এই রাস্তা নির্মাণে আমরা খুশি।
রসকুন্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে উঠেছে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ। কখনো নিজস্ব তহবিল থেকে প্রধান শাড়ি কিনেছেন, মিটিয়েছেন নিজের নিজস্ব মোবাইলের বিল থেকে শুরু করে সাংসারিক জিনিসপত্র কেনার অভিযোগ। তবে কোনরকম প্রামাণ্য নথি ছাড়া সেসব ছিল শুধুমাত্র অভিযোগ এবং চা দোকানে আলোচনার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ধান কেনা বেচায় গরমিল করার অভিযোগ উঠেছিল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও, এবার টেন্ডার ছাড়া স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি যুগ্মভাবে কিভাবে এমন কাজ করলো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক মহলে।





