খনির নিচে জলের তোড়ে ডুবে মৃত্যু এক কর্মীর। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ অন্য চারজন শ্রমিককে দু’ঘন্টার মধ্যেই সুস্থ্য ভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনায় খনির মধ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনাটি ইসিএল-এর বাঁকোলা এরিয়ার শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারির।
ইসিএল ও কয়লা উৎপাদনকারী বেসরকারি সংস্থার গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ ইসিএল-এর বাঁকোলা এরিয়ার শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারিতে ঘটে গেল এমন বড় দুর্ঘটনা। মৃত্যু হল বিবেক কুমার মাঝি(২৯) নামে এক শ্রমিকের। নিখোঁজ চার শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। কোলিয়ারির ১৬ নম্বর ফেসের ১৯ নম্বর লেভেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কোলিয়ারী সূত্রে জানা যায় গেইনওয়েল কোম্পানি নামে এক বেসরকারি সংস্থার ৯ জন কর্মী দুর্ঘটনার সময় কাজ করছিল।
দেওয়ালে হোল করার সময় পাশের স্টপিং দেওয়াল ভেঙ্গে সেখানে জল ঢুকে যায়। জলের তোড়ে ভেসে যান পাঁচজন কর্মী। এর মধ্যে মৃত্যু হয় বিবেক কুমার মাঝির। অন্য চারজনকে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খনি আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দল। ম্যানেজমেন্টের গাফিলতি নিয়ে সরব শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন কেকেএসসি’র নেতা সৌমিক মজুমদার, সিটুর মনোজ মুখোপাধ্যায়রা বলেন, এই দুর্ঘটনার দায় কর্তৃপক্ষের। খনি গর্ভে নিরাপত্তার গাফিলতি রয়েছে, এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না বলে দাবি করেন তারা। ঘটনাস্থলে উত্তেজনার আঁচ পেয়ে সেখানে এসিপি অন্ডাল সহ পৌঁছায় অন্ডাল থানা ও উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ।
কোলিয়ারীর কর্মীরা জানান, এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক বার এই কোলিয়ারিতে ঘটেছে দুর্ঘটনা, মৃত্যু হয়েছে শ্রমিকের। তারপরও থেকে গেছে সুরক্ষায় গাফিলতি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোলিয়ারির পার্সোনাল ম্যানেজার পল্লব খাস্তগীর জানান, খনির নিচে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে শুনেই তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি জানান, খনির নিচে আটকে পড়া চারজন শ্রমিককে সুস্থ ভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যদিও এই ঘটনায় এক শ্রমিক মারা গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে এবং এই ঘটনার পিছনে ঠিক কি কারণ সেই কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে।





