বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি,মাঝে মাঝে থামলেও সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ফের বৃষ্টি।রাত যত বারে ততই বাড়তে থাকে বৃষ্টির পরিমান।প্রবল বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে যায় পানাগড় সহ কাঁকসার বিভিন্ন এলাকা।কোথাও রাস্তার উপর জল জমে যায়।
আবার কোথাও জল বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।রাতভর বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে যায় পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র।সারা রাত ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালের মেল ও ফিমেল ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সমস্ত বিভাগে জল ঢুকে যায়।নিকাশী নালার জল বৃষ্টির সাথে মিশে গিয়ে হাসপাতালের মধ্যে ঢুকে পড়ায় হাসপাতাল জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।শুক্রবার সকালে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় জল কিছুটা কমলেও। হাসপাতাল চত্বরে জমা জলের ওপর দিয়েই হাসপাতালে প্রবেশ করেন রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় সকলকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা জানিয়েছেন, এমন বৃষ্টি তারা বিগত দিনে দেখেননি। সারারাত ধরে বৃষ্টির জেরে হাসপাতালের বেডের ওপরে বসে রাত পার করতে হয়েছে তাদের।কখনো সাপ কখনো ব্যাঙ ঢুকে পরে হাসপাতালে।চিকিৎসক থেকে নার্স সকলেই চেয়ারের উপর পা তুলে বসে রাত পার করেন।যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের জমা জল নিষ্কাশনের কোন রকম উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তোলেন রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিন শিশুদের ওয়ার্ড জলমগ্ন থাকায় ও বেশ কিছু রোগী কে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক রথীন মুখার্জি জানিয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির জলের সাথে নিকাশি নালার জল হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল থেকে কিছুটা হলেও জল কমে।কিছু ওয়ার্ডের ভিতরে জল জমে থাকে।তাই মধ্যেই তারা পরিষেবা দিতে থাকেন।
কেউ জলে দাঁড়িয়ে নিলেন ওষুধ।কেউ চেয়ারের পা তুলে নিলেন লিমুলাইজার,আবার কেউ জলে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের কাছে করালেন চিকিৎসা। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন,এটাই উন্নয়ন।নিকাশী নালা গুলো সাফাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেয় নি পঞ্চায়েত যার কারণে সমস্যায় ভুগতে হোচ্ছে মানুষকে। প্রশাসনের কাউকে হাসপাতালে দেখা যায় নি।
অন্তত পাম্প চালিয়ে জল নিষ্কাশন করা উচিৎ ছিলো।কিন্তু সেটাও প্রশাসন করে নি। অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টির জেরে কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত্রে প্রবল বৃষ্টির সময় বিপদ বুঝে অনেকেই মাটির বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রেহাই পান সকলে। যে সমস্ত জায়গায় মাটির বাড়িগুলি ভেঙে যায় সেই সমস্ত বাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন তারা মাটির বাড়িগুলি বেহাল অবস্থা হয়ে যাওয়ায় তারা প্রশাসনের কাছে পাকা বাড়ি করার জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
বৃষ্টির জেরে মাটির বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিথিন দেওয়া হলে, তা দিয়েই কোনোমতে পরিবার কে নিয়ে সকলকে থাকতে হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে যাওয়ার পর তাদের দ্রুত বাড়ি মেরামত করার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা সাহা জানিয়েছেন তার পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন পাড়ায় মাটির বাড়ি ভেঙে যায়। খবর পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি তারা সেই সমস্ত বাড়িতে যান এবং অসহায় পরিবার গুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাদের ভাঙ্গা বাড়ি যাতে দ্রুত পাকা হয় সেই আশ্বাস দেওয়া হয় তাদের।





