ফল খেতে কার না ভালো লাগে বলুন তো। আর এর পুষ্টিগুণের কথা নাই বা বললাম, কারণ তা সকলেরই জানা। কিন্তু বর্তমানে এই ফল হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যবিত্তের গলার কাঁটা। রাজ্যের ফলের বাজারে দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মৌসুমি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
রবিবার কলকাতার বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখে, আম কেজি ১৮০-২২০ টাকা, চায়না আপেল কেজি ৩৫০ টাকা, সবুজ আপেল কেজি ৪০০ টাকা, লাল আঙুর কেজি ৪০০ টাকা, সবুজ আঙুর কেজি ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, কমলা কেজি ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৪০০ টাকা, নাশপাতি কেজি ৩৫০ টাকা, বেদানা কেজি ৪৫০–৫০০ টাকা, ড্রাগন ফল কেজি ২২০ টাকা, দেশি পেয়ারা কেজি ৭০ টাকা, সাগর কলা প্রতি ডজন ১৫০ টাকা, তরমুজ পিস ৩০০ টাকা, জাম্বুরা পিস ৭০ টাকা, হানি ডিউ পিস ১৫০ টাকা, আনারস পিস ৭০ টাকা, কাঁচা কমলা কেজি ১০০ টাকা। এক ফল বিক্রেতা বাপি চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘাটে গেলে আমরা মাল পাই না। দামেও আগুন। বেচাকেনা একেবারেই নেই।
যিনি আগে এক কেজি কিনতেন, তিনি এখন এক পোয়া নেন। বেলা ১২টা বাজলো এখনো ১ টাকার ফলও বিক্রি হয়নি। এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এবং আমদানি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ মানুষ ফল কিনতে পারবে না। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আমরা এই আমলেও এমন চিত্র দেখতে চাইনি। আর এক ফল বিক্রেতা বলেন আমরা তো ইচ্ছে করে দাম বাড়াই না।
পাইকারি বাজার থেকেই আনতে হচ্ছে বেশি দামে। আগে যেখানে ৫০ হাজার টাকার মাল আনলে এক সপ্তাহ চলত, এখন তা দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়। বিক্রিও আগের চেয়ে অর্ধেক কমে গেছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক গৃহবধু অমিতা প্রামাণিক বলেন, ফল এখন বিলাসবহুল হয়ে গেছে। আগে বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহে একদিন আপেল কিনতাম, এখন তা মাসেও একবার সম্ভব হয় না। কলা-কমলাও কেনা মুশকিল হয়ে গেছে।
এই দামে ফল কিনতে গেলে সংসার চালানো সম্ভব না। বাজারে গিয়ে ফল দেখে শুধু হাহাকার করে ফিরে আসতে হয়।





