অনেক দিন পর দিল্লির দরবারে দেখা গেল বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীকে। বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। মূল আলোচ্য ছিল ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর বাড়তে থাকা হেনস্থা।অধীর রাষ্ট্রপতির হাতে দুই পাতার এক স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের নানা প্রান্তে বাংলার শ্রমিকদের শারীরিক চেহারা, ভাষা, খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে তাঁদের প্রায়ই বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে।
ফলে বহু শ্রমিককে আটক, মারধর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থানসহ একাধিক রাজ্যে এ সমস্যা প্রকট বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে অধীর বলেন, বাংলাভাষী শ্রমিকরা অন্য রাজ্যের অর্থনীতি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে অপমান করা হচ্ছে। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের যে কোনও রাজ্যে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার আজ বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
অধীর চৌধুরী সম্প্রতি হরিয়ানার পানিপথে গিয়ে হেনস্থার শিকার শ্রমিকদের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান, অবিলম্বে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি অধীরের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনই মুর্শিদাবাদের ১৩ জন শ্রমিক উত্তরপ্রদেশ থেকে ফিরে এসেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেখানেও তাঁরা চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
এদিকে, দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ বিরতির পর অধীরকে দেখে খুশি হন তাঁর অনুগামীরা।





