মাকে কাছে পেতে চেয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দারস্থ হল শিশু শ্রেণির এক ছাত্র। নিজের ডায়েরিতে লেড পেনশিল দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে “দিদুন” সম্বোধন করে লেখা সেই চিঠি কালীঘাটের ঠিকানায় পোস্ট করা হয়েছে বলে দাবি খুদের পরিবারের। শিশু শ্রেণির ওই পড়ুয়া আসানসোলের গোপালপুরের বাসিন্দা। ঐতিহ্যের বাবা কৌশিক দাস কোল ইন্ডিয়াতে চাকরি করেন এলাকাতেই। মা স্বাগতা পাইন উত্তর দিনাজপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ঐতিহ্যের বয়স যখন একবছর তখন চাকরি পেয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেন তিনি। ফলে একার পক্ষে ছেলেকে কর্মক্ষেত্রে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যকে বাবার ও দাদুর কাছে আসানসোলে থাকতে হয়। মায়ের সঙ্গে দেখার সুযোগ হয় অনেক দিন পর পর। পরিবারে বাবা ও ঠাকুরদার সাথে দিন কাটে ঐতিহ্যের। মায়ের সাথে দেখা করতে চেয়ে প্রায়ই বায়নাক্কা ধরে ছোট্ট ঐতিহ্য। পরিবারের দাবি, তখন তাকে ভোলাতে ইঁদপুরের বনকাটা গ্রামে মামা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি দেওয়ার বিষয়টি তার মাথায় এল কীভাবে? এ নিয়ে পরিবার জানায়, বাড়ির কাছে বদলি হতে চেয়ে শিক্ষা দফতরে বহুবার আবেদন করা হয়েছে। তবে তাতে কাজ হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলে সমস্যার সমাধান হতে পারে, হয়ত এমন আলোচনা শুনেই, মাকে কাছে পেতে হাতে পেনশিল তুলে নেয় ঐতিহ্য। ঐতিহ্য বলে, ‘আমি বড়দের বলতে শুনেছি। মমতা দিদুনই আমার মাকে কাছে আনতে পারেন। তাই আমি মমতা দিদুনকে চিঠি লিখেছি।’ খুদের চিঠি দেখে তা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। সদ্য সেই চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। তবে সেই চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে পরিবারের। খোদ ঐতিহ্য বলে ‘ঠিঠি তো পাঠানো হল। তবে মমতা দিদুনের হাতে পৌঁছল কি না তা জানবো কি করে। যদি মমতা দিদুন আমার সমস্যার সমাধান করেন তবে ফের ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখব।’





