রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হল না। হুগলির উত্তরপাড়ার এক নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধার মদন রানার মৃত্যু হয়েছে দুই আবাসিকের হামলায়। পুলিশ জানিয়েছে, শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
নেশা মুক্তি কেন্দ্রের এক আবাসিক জানান, শুক্রবার ভোরে প্রার্থনার পর ২০ জন আবাসিককে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয় কেন্দ্রের দুই আবাসিক। এরপর রান্নাঘর থেকে শিলনোড়া এনে মদন রানার উপর চড়াও হয় তারা। বাইরে থেকে আওয়াজের শব্দ শুনে অন্য আবাসিকরা দরজা ভেঙে ঢুকলে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন মদন। তাঁদের বাধা দিতে গেলে আক্রান্ত হন আরেক আবাসিকও।
ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছায় মদনের পরিবারে। মা ও দিদি তাঁকে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত দুই আবাসিক আসন্ন পুজোর আগে বাড়ি যাওয়ার আবেদন করেছিলেন। তা মঞ্জুর করতে রাজি ছিলেন না মদন রানা। এই নিয়ে বচসার জেরেই ঘটে মারাত্মক হামলা। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের বাড়ি দমদম-বেলঘরিয়া এলাকায় বলে খবর।
মৃত মদন রানার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ ছিল। তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন আগে। নিজেও নেশাগ্রস্ত অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর বছর পাঁচেক আগে নেশামুক্তি কেন্দ্রের সূচনা করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে তৃণমূলের কাউন্সিলর হলেও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। অভিযুক্ত দুই আবাসিক বর্তমানে পলাতক। তাঁদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ।





