এসএসসি নবম দশমের পরে এসেছি একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষার দিনেও ফের সেই একই ঘটনা। বাংলার লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি বাংলায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হাজার হাজার ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে একটা বড় অংশের পরীক্ষার্থী এসেছেন বিহার উত্তর প্রদেশ ঝাড়খন্ড ওড়িশা এবং অসম থেকে। তবে ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের বাংলার এসএসসি পরীক্ষায় বসার থেকেও রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি করেছেও উত্তর প্রদেশ থেকে আর সব বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর বক্তব্য।
গত রবিবার যেখানে এসেছি নবম দশমের পরীক্ষায় প্রায় ৩০ হাজারের উপরে পরীক্ষার্থী এসেছিলেন বিহার উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে আজ রবিবার এসেছে একাদশ দ্বাদশের পরীক্ষাতেও শতাংশের হিসেবে ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আগের দিনের মতোই। এরমধ্যেই উত্তর প্রদেশ থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমাদের রাজ্যে তো একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষকদের জন্য কোন পরীক্ষাই হয় না বহুবছর ধরে। তাহলে চাকরি করতে গেলে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে আসা ছাড়া কোন উপায় নেই।
উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহার, প্রয়াগরাজ থেকে বাংলায় পরীক্ষা দিতে এসেছেন বহু পরীক্ষার্থীরা। শ্যামবাজার, বাসন্তিদেবী কলেজ, যাদবপুর বিদ্যাপীঠ সহ কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ভিন রাজ্য থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের দেখা গিয়েছে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীরাই নয়, ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীরাও বাংলার ওপরে ভরসা করেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। বাইরের থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা শনিবার থেকেই অনেকে হাজির হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ থেকে বাংলায় পরীক্ষা দিতে আসা দীনেশকুমার পালের যাদবপুর বিদ্যাপীঠে সিট পড়েছে। তিনি জানান, পিএইচডি এমফিল করার পরেও চাকরি নেই তাঁদের রাজ্যে তাই চাকরির পরীক্ষার খবর পেলে সেখানেই ছুটে যান। দীনেশ ক্ষোভ উগরে বলেছেন, বেকারত্ব নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথাই নেই উল্টে গোটা দেশ ধর্ম নিয়ে মেতে। তিনি আরও বলেছেন শিক্ষিত লোকজন বেকার বসে রয়েছে সেখানে বেআইনি পথে অযোগ্যরা চাকরি পাচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের কথা বলতে গিয়ে দীনেশ বলেছেন, সেখানের অবস্থা খুব খারাপ। ২০১৮ সালের পরে যোগী রাজ্যে কোনও নিয়োগ নেই বলেই দাবি তাঁর।
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর চাকরি করার পরেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারাতে হয়েছে যাদের সেই আন্দোলনকারীরাও অনেকেই আজ এসএসসি পরীক্ষায় বসেছেন। তবে তার জন্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। এসএসসি আন্দোলনের অন্যতম মুখ সাহানি নাজনি আবারও পরীক্ষায় বসতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। রাজপুর পদ্মমণি গার্লস হাইস্কুলে তাঁকে আবার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। সাহানি নাজনি বলেন, আমার জীবনের এই ১০টা বছর ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমরা নিয়ম মেনে ২০১৬ সালেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। এই দুর্নীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ আমাদেরই বারবার ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে।





