পুলিশ মনে করছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অনামিকা মন্ডলের। অনামিকার পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সোমবার তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে যাদবপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক ময়নাতদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলেই খুন না দুর্ঘটনা বোঝা যাবে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে এবার নামল লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। পুলিশ সুত্রের খবর, বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট করে জানায়নি লালবাজার। শহরের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) বলেন, পরিবার অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগ পেয়েছি। নিয়মের মধ্যে যা যা করা দরকার সব কিছুই করা হবে। পুলিশ সূত্রে, এ-ও জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যা য় সংহিতার ১০৩ (১), যড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযোগটি অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যতক্তির বিরুদ্ধে করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনের ঝিল থেকে উদ্ধার হয় প্রথম বর্ষের এই ছাত্রীর নিথর দেহ। প্রাথমিকভাবে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসাবে মামলা নেওয়া হলেও, পরিবারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। অনামিকার বাবার কথায়, ‘মেয়েকে কেউ কোনও প্রস্তাব দিয়েছিল।
ও রাজি না হওয়াতেই ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ও ওই অন্ধকারে একা যেতে পারে না।’ এদিকে, ছাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা জানতে পাঠানো হয়েছে ভিসেরা রিপোর্ট। রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সহপাঠী এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে ইতিমধ্যেই একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, যাদবপুরের ছাত্রীমৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সবাই রাষ্ট্রবিরোধী। যাদবপুরে যত পার্থেনিয়াম আছে সব সাফ করে দেব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের লালনপালন করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ছাত্ররা ভোটের সময় ‘নো ভোট টু মোদী’ স্লোগান দেয় এবং বিজেপি-কে আটকানোর চেষ্টা করে। বিজেপি-র ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি-কে আনুন, সব সাফ করে দেব। যাদবপুরের বর্তমান পরিস্থিতিকে পার্থেনিয়াম আগাছার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, যাদবপুরে যত পার্থেনিয়াম আছে সব পরিষ্কার করে দেব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মদ, গাঁজা, চরসের আখড়া হয়ে উঠেছে। সেখানে ২৬ জানুয়ারি বা ১৫ আগস্ট পালন করতে দেওয়া হয় না, জাতীয় সঙ্গীত হয় না, এমনকি রামনবমী বা দুর্গাপূজার বিজয়াও পালন করতে দেওয়া হয় না। ওখানে একশ্রেণির আল্ট্রা লেফট আছে, যারা ভারতবর্ষের সংবিধান জ্বালায়, ‘আজাদ কাশ্মীর’-এর স্লোগান দেয়। এদের নাম হচ্ছে ‘মাকু’। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন হচ্ছে ‘সেকু’। ওখানে ‘মাকু’ আর ‘সেকুর’ জয়েন্ট ভেঞ্চার চলছে।





