- Advertisement -spot_img
Homeরাজনীতিবীরভূম ও পুরুলিয়ার নেতৃত্বকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

বীরভূম ও পুরুলিয়ার নেতৃত্বকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

- Advertisement -spot_img

গোষ্ঠীকোন্দলের কথা শুনলেই প্রয়োজনে সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেব। বীরভূম ও পুরুলিয়া নিয়ে বৈঠকে এমন চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও।

 

অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর থেকেই বীরভূম জেলার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। অনুব্রত এবং কাজল শেখের মধ্যে বহুদিনের পুরনো এই রেষারেষি মেটাতে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। কিন্তু তাতেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে আজ নিজেই মাঠে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কোর কমিটির সদস্য অনুব্রত মণ্ডল, বিকাশ রায়চৌধুরী ও কাজল শেখরা। একসঙ্গে বসে আলোচনা করাকেই ‘উদাহরণযোগ্য ছবি’ বলে ব্যাখ্যা করেন অভিষেক। কড়া বার্তায় বলেন, ‘সবাই মিলে আজ একসাথে এখানে বসে বৈঠক করছেন। এই ছবিই জেলায় রাখতে হবে। জেলার এক আসনেও হার নয়। সব আসন জিততে হবে এবার।’ বীরভূমের ১১টি বিধানসভা আসনের দখল নিতে এখন থেকেই রণনীতি তৈরি করছে তৃণমূল।

 

শোনা যাচ্ছে, কয়েকটি ব্লকে সভাপতির পরিবর্তন হতে পারে। বৈঠকে অভিষেক জানিয়েছেন, একাধিক নাম জমা পড়েছে। দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রত্যেকের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক দক্ষতা খতিয়ে দেখা হবে। বৈঠক শেষে কাজল শেখ বলেন, ‘দল যাকে পাঠাবে, তাকেই আমরা বিধানসভায় জিতিয়ে পাঠাব।’ অনুব্রত মণ্ডলের কথাতেও একই সুর, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, তাতে বিজেপি যতই কুৎসা করুক, ভোটে কিছু হবে না।’ পাশাপাশি, পুরুলিয়ার বৈঠকে জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব, বিধায়ক, জেলা সভাপতি এবং বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সভাপতিদের ডাকা হয়েছিল।

 

২০১৯ লোকসভা থেকে শুরু করে ২০২১ বিধানসভা এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ লোকসভাতেও পুরুলিয়ায় বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় অন্তর্ঘাতের জেরেই কাঙ্ক্ষিত জয় অধরা থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই পুরুলিয়ায় সংগঠন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নেতৃত্ব। দলীয় মহলে শোনা যাচ্ছে, হুড়া, পাড়া, রঘুনাথপুর-২, ঝালদা-১, বাঘমুণ্ডি, বলরামপুর, পুঞ্চা, বরাবাজার, পুরুলিয়া-২ এবং কোটশিলা—এই সব ব্লকে সভাপতির পরিবর্তন হতে পারে। একাধিক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে নেতৃত্বের কাছে। কোথাও গোষ্ঠী কোন্দল, কোথাও কাজে গাফিলতি, কোথাও বা ভোটে আশানুরূপ ফল হয়নি। পুরুলিয়ার বৈঠকেও ছিল কড়া বার্তা। সেখানে দলের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল রুখতে স্পষ্ট নির্দেশ দেন অভিষেক।

 

বলেন, বুথে বুথে সংগঠকদের যেতে হবে, বুথস্তরের কাজেই জোর দিতে হবে। স্থানীয় কর্মসূচি এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর নজর দিতে হবে। পুরুলিয়ায় বিজেপির সাংসদ থাকলেও তৃণমূলের ভোটের মার্জিন খুব একটা বেশি নয়— সেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘একসঙ্গে লড়লে পুরুলিয়ায় বিজেপিকে হারানো সম্ভব।’ আগামী নির্বাচনের আগে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে বীরভূম ও পুরুলিয়ার এই বৈঠক যে দলের রণকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এখন দেখার দ্বন্দ্ব ভুলে জেলা নেতারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন কিনা।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here