অবশেষে অশোকনগর স্টেশনে থামল বহু প্রতীক্ষিত এসি লোকাল ট্রেন। রেলের তরফে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও অশোকনগরসহ বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার একাধিক স্টেশনে অতিরিক্ত স্টপেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হয়েছিল। সেইমতো সপ্তাহের প্রথম দিনেই সকালে দেখা গেল যাত্রীদের ভিড়। কলেজ পড়ুয়া থেকে চাকরিজীবী-সকলেই এসি লোকালের অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় জমালেন টিকিট কাউন্টারে। এদিন এসি লোকালে যাত্রা করার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
যাত্রীদের সঙ্গে একইভাবে ট্রেনে উঠতে দেখা যায় অশোকনগরের বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ন গোস্বামীকেও। এসি লোকাল ট্রেন আসার বেশ কিছুটা সময় আগেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সহ সাধারণ মানুষকে নিয়ে তিনি উপস্থিত হন স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। বিধায়ক নিজে যাত্রীদের হাতে লাড্ডু তুলে দিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। অ্যানাউন্সমেন্ট শোনার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেশনে চড়তে থাকা যাত্রীদের উত্তেজনা যেন আরও বাড়ল, সেই দৃশ্য চোখে পড়লো। প্রতিদিনের বনগাঁ লোকালের ট্রেনের দরজার সামনে ভিড়ের চেনা ছবি এদিন এসি লোকাল ট্রেনেও দেখা গেল। তবুও এদিনের অনুভূতিটা যেন ছিল অনেকটাই অন্যরকম। এসি লোকাল ট্রেনের দরজা খুলতেই ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে যাত্রীরা ঠেলাঠেলি করে উঠে পড়েন ট্রেনে। যেন নৈতিক জয় পেল অশোকনগরের মানুষ।
অল্প দিনের জন্য হলেও অশোকনগরবাসীরাও এসি লোকালের সুবিধা পাচ্ছেন। পরবর্তীতে রেলের তরফ থেকে বিবেচনা করে স্থায়ী ভাবে স্টপেজ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখায় এসি লোকালের এই স্টপেজ ঘিরে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও শেষমেশ জয় হল সাধারণ যাত্রীদেরই। রেল সূত্রে খবর, যাত্রী সংখ্যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে বনগাঁ শাখায় এসি লোকাল ট্রেন চালু করা অনেকাংশেই সফল উদ্যোগ। রেল যাত্রীদের দাবি, সবদিক বিবেচনা করে স্থায়ী ভাবে স্টপেজ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হোক।





