বছর ঘুরলেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নতুন করে অশান্তি ছড়াতে পারে বিজেপি। বসিরহাট এবং যাদবপুর-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার যৌথ বৈঠকে এমনই সতর্কবার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যান্য দিনের মতোই জেলা নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রচারেও জোর দিতে বলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। আলোচনা হয় জেলার টাউন ব্লক সভাপতি পরিবর্তন ও পরিমার্জন নিয়েও। বিজেপির চক্রান্তের রাজনীতির বিরুদ্ধে আরও প্রচার ও মানুষের কাছে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত জেলা নেতৃত্ব ও কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, বিজেপি শুধুমাত্র এসআইআর ইস্যুকেই সামনে রেখে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে টার্গেট করে বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। তিনি সতর্ক করে বার্তা দেন, কেউ যেন গেরুয়া শিবিরের ফাঁদে পা না দেন। বিজেপির লক্ষ্য সম্প্রীতি নষ্ট করা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি-সহ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বসিরহাটের পাশাপাশি যাদবপুর ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা নিয়েও বিজেপির কৌশলের মোকাবিলা করার প্রস্তুতির দিক নির্দেশ দেন অভিষেক। বসিরহাট সন্দেশখালি প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি মনে করিয়ে দেন, লোকসভা ভোটের মুখে বসিরহাট ও সন্দেশখালি নিয়ে মহিলাদের অসম্মান করার মিথ্যা কাহিনী ছড়িয়ে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছিল। এবার বিধানসভা ভোটের আগে একই ধরনের চেষ্টা হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, ষড়যন্ত্র করে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বৈঠক থেকে অভিষেক বলেন, এসআইআর নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, দেখতে হবে একটা বৈধ ভোটারও যাতে বাদ না যায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের কোন তালিকা আপনাদের কাছে কি আছে?
যদি না থাকে সেই তালিকা তৈরি করুন। তাদের ফোন নাম্বার জোগাড় করুন। কোনও সমস্যায় অন্য রাজ্যে পড়ছে কিনা খবর রাখুন। তাদের সমস্যায় পড়লে সমাধান করুন না পারলে যে নেতৃত্বে আছে তাদের সাহায্য নেবেন।বৈঠকে বলা হয়েছে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন। বাড়িতে বসে না থেকে পুজোর আগে এবং পরে প্রতিটি বাড়িতে প্রচার করুন। উৎসবের সময় প্রতিটি পুজো কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখুন। বসিরহাটের নেতাদের বলা হয়েছে আপনাদের এলাকায় সাংসদ নেই, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট পিছিয়ে দিচ্ছে ।
লোকসভা উপনির্বাচন এবং বিধানসভা ভোট এক সঙ্গে হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুতি শুরু করুন। সীমান্তবর্তী এলাকাতে সদা সতর্ক নজর রাখুন। সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে পুজোর সময় একসাথে উৎসব উদযাপন করতে পারে তার দিকে কড়া নজর রাখবেন। সূত্রের খবর, হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক এবং শ্রমিক সংগঠনের স্থানীয় সভাপতির মধ্যে বিরোধ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, দলের অভ্যন্তরে বিভাজন কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যাদবপুর ও ডায়মন্ড হারবার দুই সাংগঠনিক জেলার টাউন ও ব্লক সভাপতিদের প্রস্তাবিত নামের তালিকা বৈঠকে চূড়ান্তভাবে নেওয়া হয়। তবে শেষ সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন বলেই জানানো হয়েছে।





