জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত ধোবা ডাঙ্গা গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় চাষাবাদ করে আসছেন। বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের জন্য কাছেই একটি খাল ছিল। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড চরণপুরে একটি খনি নির্মাণের পর, খালটি পাথর ও মাটি দ্বারা ভরাট হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যার ফলে চাষের জমিতে জল ঢুকে পড়ে ক্ষতি করছে চাষের। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এই বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছেন, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।
গ্রামের বাসিন্দা আজিমুল্লাহ জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের মে মাসে, একটি বেসরকারি সংস্থা এবং ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে খালটি বন্ধ করে দেওয়া এবং কাছাকাছি একটি সেতু নির্মাণের ফলে জল নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে জমি জল মগ্ন হয়ে পড়ে ফসলের ক্ষতি করছে। তবে, আবেদন নিবেদনেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং আজ যা আশঙ্কা করা হয়েছিল তাই ঘটেছে। আজিমুল্লাহ বাবু বলেন যে বেসরকারি সংস্থাটি খালটি বন্ধ করে দিয়েছে এবং ডাম্পার পরিচালনার জন্য একটি সেতু তৈরি করেছে।
যার জেরে এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জল মগ্ন হচ্ছে এলাকা ও এলাকায় অবস্থিত একটি কবরস্থানও। তিনি বলেন, কমপক্ষে ৩০ বিঘা জমির ধানের ফসল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সামজাদ মুল্লা বলেন, পাঁচ মাস আগে গ্রামবাসীরা ওম শারদা গ্রুপ এবং ইসিএল-এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, সেতুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের ফসল নষ্ট হতে পারে কারণ জল ক্ষেতে প্রবেশ করবে।
তাদের পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থ কবরস্থানেও জল প্রবেশ করেছে, কিন্তু কোম্পানি বা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড কেউই কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, পাঁচ মাস আগে যখন কোম্পানির কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল, তখন তারা গ্রামবাসীদের কিছু দাবি মেনে নিয়েছিল, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার কারণে শুক্রবার তারা যা আশঙ্কা করেছিলেন তা ঘটেছে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এখন দেখার বিষয় কবে এলাকার মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে ইসিএল ও এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি কারখানা কর্তিপক্ষের ঘুম ভাঙে।





