প্রায় একদিন শান্ত থাকার পর ফের খেপে উঠল পদ্মা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ লালগোলা থানার বিলবোরাকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তারানগর গ্রামে ফের ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে একের পর এক ১৪টি বাড়ি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর কিনারায় ঝুলে রয়েছে আরও ৯টি বাড়ি। আচমকা বিপর্যয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার বৃদ্ধ-শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নেয় এলাকার এক আমবাগানে খোলা আকাশের নীচে।
ক্ষতিগ্রস্ত সোলেমান শেখের আক্ষেপ, শেষ সম্বলটুকুও চলে গেল, এখন গোটা পরিবার নিয়ে পথের ভিখারি হয়ে গেলাম। ভাদু শেখের অভিযোগ, রাতে পুলিশ ছাড়া প্রশাসনের আর কাউকে দেখা যায়নি, সারারাত আতঙ্কে কাটালাম।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান লালগোলা থানার ওসি অতনু দাস। তবে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কারও দেখা মেলেনি। বুধবার সকালে উপস্থিত হন স্থানীয় বিডিও দেবাশীষ মণ্ডল ও জেলা পরিষদের সদস্য রুমা বন্দ্যোপাধ্যায়। রুমা বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের হাত-পা বাঁধা, ভরসা একমাত্র উপরওয়ালা। বিডিও জানান, কিছু পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখআলীপুর হাই স্কুলে, পাশাপাশি শিবিরে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে ভাঙন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি।
কয়েক বছর ধরেই পদ্মা ধীরে ধীরে পূর্ব পাড়ে সরে আসছে। বিশেষ করে গত ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ভাঙন ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নদী ভাঙন রুখতে কেন এখনও বিশেষজ্ঞ বা প্রকৌশলীদের হস্তক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।





