ডিজিটাল যুগে প্রতারণার নতুন কৌশলের ফাঁদে পা দিলেন ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজলদিঘি এলাকার এক মহিলা। বন্ধুত্বের প্রলোভনে পড়ে তিনি খোয়ালেন সর্বমোট ৮০ হাজার টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর মাধবী রায়ের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে। অপরিচিত ব্যক্তি হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করে এবং বন্ধুত্ব করার প্রস্তাব দেয়। সরল মনে তিনি রাজি হন। কয়েকদিন সৌজন্যমূলক আলাপের পর প্রতারক জানায়, মাধবীর জন্য একটি দামী উপহার আসছে, তবে সেটি পেতে হলে আগে টাকা জমা দিতে হবে।
প্রথমে ১০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাত, হুমকি এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভয় দেখিয়ে আরও কয়েক ধাপে ৫০ হাজার এবং পরে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। সব মিলিয়ে ৮০ হাজার টাকা গচ্ছা যায়। পরবর্তীতে সত্যিটা বুঝতে পেরে মাধবী রায় স্বামীকে বিষয়টি জানান এবং শেষমেশ ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য, এই ধরনের প্রতারণা নতুন নয়। কিন্তু এখনও মানুষ সচেতন হচ্ছেন না। প্রশাসনের উচিত এই ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার ক্রাইম শাখার সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অচেনা নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজে বন্ধুত্ব, পুরস্কার বা উপহারের লোভে পড়া উচিত নয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো সুপরিকল্পিত প্রতারণা।গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঘটনাও দ্রুত বেড়ে চলেছে। এদিনের ঘটনাটি ফের সতর্ক করল— ডিজিটাল জগতে এক মুহূর্তের সরলতা জীবনের বড়সড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।





