পুজোর দিনগুলোতে দার্জিলিং রুটে নতুন মডেলের বাস চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও শিলিগুড়ি টার্মিনাসে বহু সমস্যা বাধার কারণে পূর্ণ শিডিউল মেনে চলতে পারেনি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে ১৯-২০টি ট্রিপের পরিকল্পনা থাকলেও দৈনন্দিন কার্যক্রমে শুধুমাত্র ১৬টি বাসই চলেছে। ফলে যাত্রী ও নিগম উভয়েই হতাশ।
নিগম সূত্রে জানা গেছে, চারটি নতুন বাসে অনলাইন টিকিটিংয়ের সুবিধা চালু করা হয়েছিল। সমস্ত টিকিটই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। অনেক যাত্রী টার্মিনাসে এসে বাসের খোঁজ পেলেও সমস্যার কারণে অনেককে ফিরতে হয়। ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, দার্জিলিং রুটে বাস পরিষেবা চলাচল অনেকটা রূপকথার মতো। বাসে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে শীঘ্রই ১৮টি ৩২-সিটের বাস চালু হলে সমস্যা অনেকটাই কমবে। পুরনো ৩০-সিটের বাসগুলো যানজটের কারণে নতুন ২৭-সিটের মডেলে পরিবর্তন করা হলেও সমস্যা থেমে যায়নি। নিগমের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে ১৩টি বাসে ক্লাচ প্লেট জ্বলে গেছে। প্রতিটি ক্লাচ প্লেটের দাম পাঁচ হাজার টাকার বেশি। এছাড়া স্পেয়ার পার্টস নষ্ট হলে নতুন পার্টস পেতে সময় লাগায় বাস দীর্ঘ সময় বসে থাকে।
ক্লাচ প্লেট জ্বলে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই নিগমের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চালকদের অভ্যাস বা অপব্যবহারকে দেখা হচ্ছে। তাই পুজোর পর চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিগমের কর্মীরা জানিয়েছেন, সারা বছর শিডিউলে ১৬টি বাস চলার কথা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যাটি পরিবর্তিত হয়। পুজোর দিনে সাধারণত ১৬টিরও বেশি বাস চালানো হয়। কিন্তু এবার ১৫টির বেশি বাস চলতে পারেনি।
ডিভিশনাল ম্যানেজার সৌভিক দে বলেন, এই রুটে বাসে সমস্যা থাকলে আয়ের উপর বড় প্রভাব পড়ে। পুজোর দিনগুলোতে পুরো শিডিউল চালাতে না পারায় আমরা হতাশ। নিগমের কর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন ৩২-সিটের বাস চালু হলে চলাচল আরও স্বচ্ছন্দ হবে। পাশাপাশি ক্লাচ ও স্পেয়ার পার্টসের সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





