পুজোর সময়ে একবার ফের চরম চাপের মুখে পড়েছে শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকলেও, এবার পুজোর পাঁচদিনে ৭৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। অভিযোগ, হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তারদের যথাযথ উপস্থিতি না থাকায় উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী সুপার দেব প্রধান দাবি করেছেন, পুজোয় মৃত্যুর হার তেমন বাড়েনি। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। বাকি মৃত্যুর হার স্বাভাবিক। তবে হাসপাতালের অন্যান্য সূত্র বলছে, পুজোর সময়ে জুনিয়ার ডাক্তার ও ইন্টার্ন হাউসস্টাফকে পুরো চিকিৎসা দায়িত্ব দেয়া হলেও সিনিয়র ডাক্তারদের উপস্থিতি কম ছিল। অনশন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে সিনিয়ার চিকিৎসকরা ‘অন কল’ সেবায় সীমিত সময় উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজোর পাঁচদিনে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুজোর সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ৬২ জনে নেমেছিল। কিন্তু এবারের পুজোয় সংখ্যা বেড়ে ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে তিন-চারটি পুলিশ কেস এসেছে— দুর্ঘটনা, মারামারি বা অন্যান্য আহত রোগী।
পুজোর সময়ে হাসপাতালের অনেক পূর্বনির্ধারিত অপারেশন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, পুজোর ছুটির আমেজের কারণে ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবাও কার্যকর হয়নি। সিনিয়র ডাক্তাররা ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন না, ফলে জুনিয়ার ডাক্তার ও ইন্টার্নরা মূল দায়িত্ব সামলেছেন। এতে অনেক রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রতিদিন সাধারণ সময়ে ১০-১১ জন রোগীর মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ষষ্ঠীতে ১৪ জন, সপ্তমীতে ১২ জন, অষ্টমীতে ১২ জন, নবমীতে ১৭ জন এবং দশমীতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় মানুষ ও রোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, পুজোর দিনে উপযুক্ত চিকিৎসা না থাকার কারণে অনেক রোগী মরেছেন। হাসপাতালে উপস্থিত সিনিয়র ডাক্তাররা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুজোর সময়ে হাসপাতালের পর্যাপ্ত জনবল ও সিনিয়র ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো চিকিৎসা পরিষেবা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এই পরিস্থিতি আবারও দেখিয়েছে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে পুজোর দিনে চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি এখনও সমাধান হয়নি। সাধারণ রোগী থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত সব রোগীর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ রয়েছে প্রশাসনের ওপর।





