রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত প্রথম মহিলাদ্বয় যারা পৃথিবীর সর্বোচ্চ মোটরবাইক পাশ উমলিঙ লা ও সিয়াচেন ব্যস ক্যাম্প জয় করল। বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা ও থ্যালাসেমিয়া-মুক্ত সমাজ গড়ার ডাক দিয়ে ১৯ হাজার ২৪ ফুট উচ্চতার লাদাখের উমলিঙ লা জয় করে বাঁকুড়ার মাটিতে পা রাখলেন চার বাইকার। বাঁকুড়া এক্সপ্লোরেশন নেচার একাডেমীর চার সদস্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসসাতালের চিকিৎসক ডাঃ সুনীতা বাগদী, শহরের মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা মুন্না পাল, একটি সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক সুকান্ত পাল ও ব্যবসায়ী শেখ আলিমুদ্দিনরা ৩ অক্টোবর চারটি বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শ্রীনগর, কার্গিল, লে হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁরা লাদাখের সর্বোচ্চ গিরিপথ উমলিং লা-য় পৌঁছায়।
অবশেষে ১৪ দিনের দীর্ঘ বাইক যাত্রা শেষে ২৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার তাঁরা সুস্থ শরীরে বাঁকুড়ায় পৌঁছালেন। এদিন ওই চার বাইকার বাঁকুড়ায় পৌঁছানোর পর বাঁকুড়া এক্সপ্লোরেশন নেচার একাডেমির তরফে শহরের একটি বেসরকারী লজে সংবর্ধনা জানানো হয়। এদিনের এই সংবর্ধনা সভায় তাঁরা তাঁদের দীর্ঘ যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুণ্ডু, সদর থানার আইসি সুজয় তুঙ্গ সহ, বাঁকুড়া ভলেন্টারি ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশন সহ-সভাপতি সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা ও সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক সহ অন্যান্যরা। এদিন ওই বাইকার দলের অন্যতম সদস্যা ডাঃ সুনীতা বাগদী বলেন, দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো।
আশ্চর্যজনকভাবে প্রথম বাঙ্গালী মহিলা হিসেবে সিয়াচেন বেস ক্যাম্প ও বিশ্বের উচ্চতম মোটরেবল পাস উমলিঙ লা পাসে পৌঁছেছি। এটা ভেবেই বেশ ভালো লাগছে বলে তিনি জানান। শিক্ষিকা মুন্না পাল বলেন, অসম্ভব বলে কিছু হয় না, মনে সাহস থাকলে সব অসম্ভবই সম্ভব। থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার ডাক দিয়ে তাঁদের এই যাত্রা সম্পূর্ণ সফল বলে তাঁরা জানান। টীম লিডার শেখ আলিমুদ্দিন বলেন, আমাদের দলের সদস্যদের কারোরই আগে পাহাড়ে বাইক চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। বিষয়টা পূরোটাই চ্যালেঞ্জের ছিল। আবহাওয়াও যথেষ্ট প্রতিকূল ছিল। তারমধ্যেও এই সফরে কোন ওষুধ ব্যবহার করতে হয়নি কাওকে। সফলভাবেই দুই মহিলা সদস্য সহ তাঁরা চার জন উমলিং লা ও সিয়াচেন বেস ক্যাম্প জয় করে ফিরেছেন বলে তিনি জানান।





