অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি — দাঁড়, পাল, হাল বা ইঞ্জিন কিছুই নেই, এমনকি মাঝিও নেই, তবু চলাচল করছে নৌকা! দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর-২ ব্লকের কাশীনগর এলাকায় নাসি খালের উপর দিয়ে এই অদ্ভুত ‘নৌকা-সাঁকো’ই এখন পারাপারের একমাত্র ভরসা শতাধিক মানুষের।
প্রায় ৪০ বছর আগে এই খালের উপর ছিল বাঁশের সাঁকো। পরে তা ভেঙে যাওয়ায় দুইটি পুরনো নৌকা পাশাপাশি বসিয়ে তার উপর কাঠের পাটাতন দিয়ে বানানো হয় এই ভাসমান সাঁকো। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এক টাকা ভাড়ায় পারাপার করান গোপাল বৈদ্য — প্রয়াত জ্যোতিষ বৈদ্যের ছেলে। এই টাকাতেই চলে তাঁর সংসার। তবে খরচ বাড়ায় তিনি চান ভাড়া দুই টাকা হোক।
একসময় মণি নদীর জলধারা ভরিয়ে রাখত এই খাল। এখন জল কমে গিয়ে নৌকা চালানোর জায়গাও সীমিত। তাই বর্ষায় দুই নৌকা, শুখা মরশুমে এক নৌকা দিয়েই চলে পারাপার।
স্থানীয়দের দাবি, এখানে একটি পাকাপোক্ত সেতু দরকার। কিন্তু বৈদ্য পরিবারের যুক্তি— সেতু হলে আমাদের রোজগার বন্ধ হবে, খাব কী? প্রশাসনেরও বক্তব্য, রাস্তা যেহেতু ব্যক্তিগত জমিতে, তাই সরকারি সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়— গোপাল বৈদ্য না থাকলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্য টিকে থাকবে তো? সময়ই তার উত্তর দেবে।





