শীত পড়তেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা থেকে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শুরু হয়েছে চোরা শিকারিদের তাণ্ডব। সাইবেরিয়া-সহ ভিনদেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের লক্ষ্য করে চলছে বন্দুকের নল। জলাশয়, ধানক্ষেত ও বিলের ধারে খাবারের সন্ধানে আসা ঘুঘু, পানকৌড়ি, বক প্রজাতির পাখি নির্বিচারে মারা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিকারিরা কেউ এয়ারগান, কেউ দু’নলা বন্দুক, কেউ বা ধারালো অস্ত্র হাতে বাইকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংরামপুর, ইটিন্ডা, পানিটর, গাছা বিল, বললি—একাধিক এলাকায় দেখা যাচ্ছে মৃত পাখির দেহ। ক্যামেরা দেখলে শিকারিরা দাবি করে তারা পাখি তাড়াচ্ছে যাতে মাছ না খায়, কিন্তু তাদের ব্যাগে মেলে একের পর এক মৃত পাখি। প্রশ্ন করতেই মোটরবাইক চেপে পালায় অভিযুক্তরা।
পরিবেশবিদদের মতে, এই নির্বিচার পাখি শিকার পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। উত্তর ২৪ পরগনা যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য রঞ্জিত মুখার্জী বলেন, এইভাবে পাখি হত্যা বাস্তুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। এই পরিযায়ী পাখিরাই কীটপতঙ্গ, গুগলি, শামুক খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
মানব সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নে এই শিকার রীতিমতো অপরাধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করুক, না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো আর দেখতে পাবে না এই অতিথি পাখিদের আকাশভরা ওড়াউড়ি।





