‘কংগ্রেস তো ঘোষিত মমতার বন্ধু। আর যেদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অধীরকে সরালেন, সেদিন রাহুল, সোনিয়া, মল্লিকার্জুন খাড়গে সিগনাল দিয়েছেন মমতার সঙ্গে লড়ব না।’ বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন মাত্র কয়েক মাস বাকি রয়েছে সেই সময় দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর ভুয়সী প্রশংসা করে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আজ শনিবার সকালে প্রেস কনফারেন্স করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতার সঙ্গে লড়লে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সোমেন মিত্র, গনি খান চৌধুরী, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পর শক্তিশালী নেতা হলেন অধীর। যদি সত্যি মমতার বিরুদ্ধে লড়তেন তবে অধীরকে সরাতেন না।’
শুভেন্দুর এই মন্তব্য নিয়েই জোর আলোচনা রাজনৈতিক মহলে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল বিরোধী মুখ হিসেবে অধীররঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেসের রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম মুখ ছিলেন। ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও, অধীর বারবার তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এনেছেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা প্রসঙ্গত, বিগত প্রায় ৩ দশক ধরেই বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর বিরোধী বলে পরিচিত অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
দিন দুয়েক আগেও এন আর সি আতঙ্কে বহরমপুরের এক বাসিন্দা আত্মহত্যা করেছেন বলে তৃণমূল অভিযোগে তোলার পরেই গোটা ঘটনার জন্য মমতাকে দায়ী করে অধীর অভিযোগ করেছিলেন, শুনলাম, বহরমপুরের গান্ধী কলোনিতে এসআইআর আতঙ্কে একজন আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা তা এখনও জানা যায়নি।
কিন্তু এসআইআর-এর কারণে এই মৃত্যু যেন তৃণমূলকে আরও উৎসাহিত করছে। তারা আত্মহত্যার বিষয়ক ঘটনাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, বিএলওদের কাছে দরখাস্ত নেওয়া হয়েছে এবং শেষে ফর্ম জমা দেওয়া হবে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চালু করার আগে কেন তিনি প্রতিবাদ করেননি? কেন হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন না? এখন রাজ্যে এসআইআর চালু করে দলীয় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে নামানো হয়েছে।
যে কেউ এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণ করেছে, তাদের তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন তার রাজ্যে এসআইআর চালু না করার জন্য। তাহলে মমতা যখন জানতেন বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর হবে, কেন তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাননি? তিনি এসআইআর চালু করেছেন, রাজ্য সরকারে সমস্ত কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। এখন নাটক করে বলছেন ফর্ম পরে সই করবেন। যদি সত্যিই হিম্মত থাকত, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এনআরসি ও এসআইআর এক করে দিয়ে বাংলায় ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।’
এমনকি, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিনে কলকাতার রাজপথে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছিল তৃণমূল, সেই দিনেও অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, যা খুশি তাই করতে পারবে না। এ রাজ্যে বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে, তার জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ী থাকবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।’ এক্ষেত্রে অধীরের যুক্তি, ‘জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে লাখ লাখ কর্মচারী নেই যে, তারা সচ্ছ বা নির্ভুলভাবে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার কাজ করবেন। যেটা বিহারের ক্ষেত্রেও ঘটেনি৷ এই ধরনের কাজ করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে রাজ্য সরকারের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।
আর রাজ্যের কর্মচারী তথা জেলাশাসক থেকে শুরু করে গ্রুপ ডি কিংবা গ্রুপ সি কর্মচারী তথা বিএলও পর্যায়ের কর্মচারীরাও শাসকদলের হয়ে কাজ করবেন। গত কয়েক বছরের নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত। আর তাই যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায়, তা শাসকদলের মদতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাদ দিয়ে থাকবে। সত্যিই যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের ভালো চান বা বৈধ ভোটারকে ভোটার তালিকায় রাখতে চান, তাহলে এই সমস্ত ঢপের কীর্তন (মিছিল) না-করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কে বলুন বৈধ ভোটের নাম বাদ না-যায়।’





