অবশেষে রাজ্যের হেরিটেজ তকমা পাচ্ছে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মস্থল— বারাসতের পুরোনো ম্যাজিস্ট্রেট অফিস। বহু বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবনটির সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে মিলছে ঐতিহ্যের মর্যাদা।
জেলা নগর ও দায়রা আদালতের পাশেই অবস্থিত এই লালচে দোতলা ভবনটি একসময় ছিল বারাসতের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস। ১৮৭৪ সালের ৪ মে এখানেই কর্মজীবন শুরু করেন বঙ্কিমচন্দ্র। নীচের তলায় চলত অফিসের কাজ, আর উপরের তলায় বসেই তিনি শুনতেন মানুষের সমস্যা, লিখতেন তাঁর অমর সাহিত্য। ১৮৮২ সালে তিনি আবারও এই পদে যোগ দেন এবং এখানেই কাটান জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বছরের পর বছর অবহেলায় বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, চত্বর ঢেকে গিয়েছে আগাছায়। এবার রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের নির্দেশে জেলা প্রশাসনকে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এই উদ্যোগে আমরা গর্বিত। এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। উল্লেখ্য, ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় বন্দে মাতরম। সেই গানটির সার্ধশতবর্ষে বঙ্কিমচন্দ্রের কর্মস্থল হেরিটেজ ঘোষণা হওয়ায় বারাসতে এখন উৎসবের আবহ।





