পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাকে ফেরাব।’ আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই বর্তমানে জনসভা থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বর্ধমান শহরে জেলা বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’।
রাজ্যজুড়ে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, খুন ও এসআইআর ইস্যুতে ‘মিথ্যাচার’-এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বর্ধমানের বড় নীলপুর মোড় থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত মিছিলের পর সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা ও রাজ্য কমিটির সদস্য সন্দীপ নন্দী-সহ দলের নেতৃত্ব ছিলেন উপস্থিত। বিজেপির দাবি, প্রশাসন প্রথমে এই সভার অনুমতি দেয়নি।
পরে হাই কোর্টের নির্দেশে সভা করার অনুমতি মেলে। এসআইআর এবং এনআরসিকে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘২১-এর নির্বাচনেও তিনি সিএএ-কে এনআরসি বলে, যেহেতু আইন হয়েছিল কার্যকর হয়নি, তার কিছুটা সুযোগ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর যে নেতারা রয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে না হিন্দুর উপকার করেছেন, না মুসলমানের উপকার করেছেন। লাগাতার এসআইআর-কে এনআরসি বলা, এসআইআর করতে না দেব, এই প্রচার হুমকি দেওয়া এবং বিএলও থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ আধিকারিক পর্যন্ত ব্যাপকভাবে উনি (মুখ্যমন্ত্রী) আক্রমণ চালিয়ে গেছেন।’
অন্যদিকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার একের পর এক বস্তি এলাকা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন শুভেন্দু। সেই ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এসআইআর শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বিচিত্র দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, অদ্ভুত সব তথ্য সামনে আসছে। কখনো রাজারহাট – নিউ টাউন এলাকার অবৈধ বাংলাদেশী কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ, কখনো গুলশান কলোনিতে গিয়ে কার্যত গোলক ধাঁধায় পড়ছেন বিএলও-রা।
ঘিঞ্জি এলাকার এত মানুষজনের মধ্যে ভোটার খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। জানা যাচ্ছে যে আবাসিকদের প্রায় ৮৫ শতাংশ বহিরাগত। এলাকায় ২ লক্ষ লোক, ৪ হাজার ভোটার! কখনো জানা যাচ্ছে যে কিরকম অবাস্তব হারে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে, বিশেষত মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা। সংযুক্ত ভিডিও তে দুটি এই রকম চিত্র তুলে ধরলাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর বিধানসভার গোঁড়ের হাট খাল পাড়ে থাকা বাংলাদেশী রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বস্তি অনেকটাই ফাঁকা। অন্যদিকে হাওড়া জেলার রামরাজাতলা থেকে পালাতে ব্যস্ত অবৈধ বাংলাদেশীরা।’





