এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলায় স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মত, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা, তাকে তার কাজ করতে দিতে হবে।একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, এসআইআর সংক্রান্ত মামলা যদি কোনও রাজ্যের হাইকোর্টে থাকে, তা যেন স্থগিত রেখে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়।মঙ্গলবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে হয় এই শুনানি। আদালতের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি-সহ যে সব রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর চলছে, তাদের সকলকেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। কমিশনকে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ মালা রায় ও দোলা সেন এই মামলাটি দায়ের করেন। তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য,বিভিন্ন রাজ্যের অবস্থান আলাদা। কোথাও চাষাবাদের সময়, কোথাও প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা। এই সময় এস করা কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,বহু গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল। ৪জি, ৫জি নেই। নথি আপলোড করায় সমস্যা হবে। সিব্বলের এই যুক্তি শুনে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন,আপনারা এমনভাবে বলছেন, যেন দেশে কখনও ভোটার তালিকা সংশোধন হয়নি। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ,নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা। তাদের কাজ করতে দিন।
ভুল থাকলে জানাতে পারেন, কমিশন নিশ্চয় সংশোধন করবে। এই মামলার মূল সূত্র বিহার। সেখানে আগে থেকেই এসআইআর নিয়ে মামলা চলছিল। পরে যুক্ত হয় পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর একাধিক রাজনৈতিক দল। সব মামলা একত্র করে মঙ্গলবার শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশ, পরবর্তী শুনানি হবে ২৬ নভেম্বর। এদিন আদালত বলে,বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও কমিশন তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে। বিচারপতি কান্তের প্রশ্ন,এসআইআর নিয়ে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ তো কমিশনের কর্তব্য। তবে তৃণমূলের দাবি, এসআইআরে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো হচ্ছে, ফলে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।





