রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে ফের বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে উদ্বোধন হল ১১০টি ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটের। প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। এই আধুনিক চলন্ত ইউনিটেই করা যাবে একসঙ্গে ৩৫ ধরনের চিকিৎসা পরীক্ষা ।যেমন ইউএসজি, প্রসূতি ও নবজাতকের পরীক্ষা, এলএফটি, চোখ ও ইএনটি-র টেস্ট সবই মিলবে এক গাড়িতে। মূলত গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলি ঘুরে ঘুরে দেবে চিকিৎসা পরিষেবা। এমনকি, রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে এই ইউনিট থেকেই করা যাবে রেফার ও অ্যাম্বুলেন্স ডাকা।এই ভ্রাম্যমাণ ইউনিট প্রকল্পের ভাবনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে। মঙ্গলবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা।
মুখ্যসচিব জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও পেতে পারেন আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা। রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করে মোট ২১০টি মোবাইল ইউনিট তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১১০টির উদ্বোধন হল। প্রতিটি গাড়িতে থাকবেন চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ান। রক্ত, মল-মূত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্যাথলজির নানা পরিকাঠামোও থাকবে এই চলন্ত ক্লিনিকে। একই মঞ্চ থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, রাজ্যের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল এখনও ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। বারাসতের এক হাসপাতাল নাকি রোগীকে জানিয়েছে, এই কার্ডে মাত্র ২ লক্ষ টাকার চিকিৎসা হবে, বাকিটা দিতে হবে পকেট থেকে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প ৫ লক্ষ টাকার পূর্ণ কভারেজ দেয়।
তিনি স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে নির্দেশ দেন, ওই হাসপাতালকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন গত ১৪ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিপুল পরিবর্তনের চিত্র। তাঁর দাবি, প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ১৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, ৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ১৩ হাজারেরও বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সরকারি হাসপাতালে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার নতুন শয্যা। তৈরি হয়েছে ১৭টি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব, ৪৯টি ট্রমা কেয়ার সেন্টার, ১৫৮টি ফ্রি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।মমতার স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যের প্রতিটি মানুষ যাতে বিনামূল্যে, মানসম্মত চিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সরকার। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই স্বাস্থ্যই হবে উন্নয়নের মুখ্য রূপরেখা।





