সব বিষয়ে এই বাংলা, দেশকে পথ দেখিয়ে এসেছে। সিনেমাতেও আগামীদিনে এ রাজ্য আবার সেই জায়গা ফিরে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গ সফর শেষে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে নন্দন প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের আবহে আগত সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ কথা বলেন তিনি। এক শিশুকে দেখে স্নেহভরে কাছে টেনে নেন, আবার এক ষাটোর্ধ্বা মহিলার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। সব মিলিয়ে নন্দন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য উষ্ণতা। চলচ্চিত্র উৎসবের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এদিন উৎসবের মুখ্য উপদেষ্টা ও মাননীয় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সহ-উপদেষ্টা ও মাননীয় মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম ঘোষ, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রধান সচিব শান্তনু বসু, উৎসব অধিকর্তা শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি প্রমুখের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে নন্দনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কাউকে না জানিয়েই এসেছি। এটা একটা সারপ্রাইজ ভিজিট। খুব ভালো লাগল। অনেক পুরানো দিনের আড্ডা জমল। আড্ডায় কিছু পুরানো দিনের কথা ওদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। নস্টালজিক মুহূর্তেকে ‘সিনে-আড্ডা’ অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবসময় তো সবাই কাজে ব্যস্ত থাকে, সারা বছরই। এই সময় আসলে অনেককেই পাওয়া যায়। এটা একটা মিলনমেলা হয়ে যায়।
নন্দন চত্বর ছাড়ার আগে সকলকে নমস্কার জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা ভালো থাকবেন। সকল সিনেমাপ্রেমী, সিনেমা অনুরাগী এবং সিনেমার সঙ্গে যারা যুক্ত- সবাইকে আমার শুভ নন্দন। আমরা চাই দেশ-বিদেশ, বাংলা সবাইকে পথ দেখাক। বাংলা সবাইকে আপন করে নিক। যত সিনেমার সংখ্যা বাড়বে, তত কর্মসূচী বাড়বে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশাকরি, আগামীবছর আরও ছবি আসবে। আমি চাই এই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকেই বাংলা দেশকে পথ দেখাক! সবাইকে আপন করে নিক।
গত ৬ ডিসেম্বর, ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে এই উৎসব থেকে আলাদা রাখতে পারেননি তিনি। দূর থেকে উৎসবের খবরাখবর নিলেও, মঙ্গলবার বিকেলে নিজেই উপস্থিত হলেন নন্দনে, সকলের সঙ্গে দেখা করতে এবং উৎসবের প্রাণময় পরিবেশ অনুভব করতে।
এদিন যদিও ছিল সপ্তাহের কাজের দিন, তবুও দুপুরের পর থেকেই নন্দন চত্বরে ভিড় জমে সিনেমাপ্রেমীদের। মুখ্যমন্ত্রীর এই আগমন উৎসবের আবহকে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে।





