রবিবার থেকে শুরু হল পানাগড় প্রিমিয়ার লীগ। যা চলবে ১৯ তারিখ পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, পানাগড়ের যুব সমাজ কে মাঠমুখী করতে ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় গত ৪ বছর আগে। আইপিএল-এর ধাঁচে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কয়েকমাস আগে হয় খেলার নিলাম পর্ব। কাঁকসা ও আশেপাশের এলাকার যুবকদের নিয়ে গঠিত হয় ১২টি দল। এরপরেই রবিবার থেকে শুরু হয় খেলা। রবিবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে প্রতিযোগিতার সূচনা করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি।
উপস্থিত ছিলেন মূল উদ্যোক্তা পল্লব ব্যানার্জি, জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, কাঁকসা থানার আইসি প্রসূন খাঁ, কাঁকসার বিশিষ্ট চিকিৎসকরা ও কাঁকসার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। রবিবার সকাল থেকে পানাগড় বাজারে খেলার মাঠে খেলা দেখার জন্য ক্রীড়া প্রেমী মানুষদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। এদিন বিকালে খেলায় উপস্থিত হন অভিনেত্রী কৌশানি মুখার্জি। তাকে দেখতে এদিন দর্শকদের ভিড় উপচে পরে খেলার মাঠে। এদিন কৌশনি রবিবার খেলায় ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ খেলোয়াড়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়। পাশাপশি দর্শকদের আবেদনে খালি গলায় নিজের বাংলা সিনেমার গান গেয়ে সকলের মন জয় করে নেন। কৌশনি জানান, অত্যন্ত গ্রাম বাংলার বুকেও ক্রিকেট খেলার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে সেটা এখানে এসে তিনি উপলব্ধি করেছেন। পুরুষদের পাশাপাশি এখন মেয়েরাও ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী। সম্প্রতি মহিলা ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ জয় করার পর বিষয়টা পরিষ্কার যে মেয়েরাও ক্রিকেট খেলায় পুরুষদের থেকে কিছু কম যায় না।
তিনি বলেন, যেভাবে পানাগড়ে খেলার প্রতি উন্মাদনা রয়েছে আগামী দিনে কেউ হয়তো পানাগড় থেকেই জাতীয় স্তরে বা ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামবে। কৌশানি জানায় খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর মন ভালো থাকে। বর্তমানে গোটা বাংলা জুড়ে খেলার প্রতি অনেকটাই উৎসাহ বেড়েছে মানুষের। তিনি বলেন উদ্যোক্তারা যে উদ্যোগ নিয়ে পানাগড় প্রিমিয়ার লিগ শুরু করেছে তা দর্শকদের উৎসাহ দেখেই সফল বলে দাবি তার। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি জানিয়েছেন, তরুণ যুবকদের মোবাইল ছেড়ে মাঠমুখী করতে এই খেলার উদ্যোগ নিয়েছে উদ্যোক্তারা। তাদের এই উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিশুদেরকেও মাঠমুখী করতে হবে তার জন্য অভিভাবকদের উদ্যোগ নিয়ে তাদের সন্তানদের মাঠে নিয়ে আসতে হবে। স্কুল স্তরেও খেলাধুলার মান উন্নয়ন হয়েছে বর্তমানে। পানাগড় প্রিমিয়ার লীগ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আগামী দিনে যাতে এই খেলা আরও বড়ো আকার নেয় সেই কামনা করেন তিনি।
খেলার উদ্যোক্তা পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মোবাইলে আসক্তি থেকে যুব সমাজকে বার করতে তিনি এবং তার দল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, খেলার উন্মাদনা দেখে তিনি নিশ্চিত তাদের উদ্যোগ সফল হয়েছে। তবে আগামী দিনে এই খেলা আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে মানুষের কাছে। এবং যতদিন যাবে ততই পানাগড় প্রিমিয়ার লীগে অনেক চমক দেখা যাবে। এবছর প্রথম দিনে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে যেমন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অভিনেত্রী কৌশানি মুখোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তেমন শেষ দিন চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলার সূচনা করতে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বিধায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।





