বামফ্রন্ট আবার নতুন পথে হাঁটছে । বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, কংগ্রেস আর আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে ভাবনা নেই এবার। ২০২১ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস-আইএসএফের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু লাভ হয়নি, একুশের ভোটে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। এই ফলাফলকে পিছনে রেখে এবার বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কংগ্রেস আইএসএফ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।।বামফ্রন্ট শরিক দল ছাড়াও সিপিআইএমএল লিবারেশন, এসইউসিআই-সহ অন্য বাম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে এক সাথে আনার চেষ্টা করছে ।
সভায় বিমান বসুকে ‘সেতুবন্ধন’ করে অন্য দলের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বড় একতায় এসইউসিআইর পক্ষ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বামফ্রন্টের শরিক অনেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার পক্ষে। ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি আগে দাবি করেছিল, ১৯৭৭ সালে যেসব আসনে তারা লড়েছিল, সেই আসন ফিরিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘ আলোচনা সত্বেও সিপিএম কিছু না বলায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও কংগ্রেস নেতারা এখনও জোট নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেননি। শুভঙ্কর সরকার কংগ্রেসের পুরো ২৯৪ আসনে লড়াই করার কথা বলছেন। অন্যদিকে, বৃহত্তর বাম ঐক্যের ‘সেতুবন্ধন’ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে। আগামী দিনে এই নতুন বাম জোটের মুখ প্রকাশ পেতে চলেছে। তাই বামের সামনে ফের বড় যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ার দিকেই আগ্রহ বাড়ছে ।
বামফ্রন্টের এই নতুন পরিকল্পনা বিধানসভা ভোটে কি সফল হবে, সেটাই দেখার বিষয়। আবার আগামী ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাকও দেওয়া হয়, কারণ ভোটার তালিকা থেকে বহু বৈধ ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা বাম নেতাদের। এদিকে ২৯ নভেম্বর অর্থাৎ আজ থেকে শুরু হচ্ছে সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। এতে বাম শরিক দলগুলোর নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভোটের আগে এই আন্দোলন কি বামেদের জন্য নতুন শক্তির সঞ্চার করবে, তা দেখার অপেক্ষা। ফাইল ফটো।





