রাজ্যের ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় বেরিয়ে এল বিস্ময়কর তথ্য। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২২টি জেলার মোট ২ হাজার ২০৮টি বুথে একটিও মৃত ভোটারের নাম পাওয়া যায়নি। এনুমারেশন ফর্ম যাচাই করে এই তথ্য সামনে আসে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে কি ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এই বুথগুলিতে কেউ মারা যাননি? নাকি মৃতদের নাম তালিকা থেকে বাদ না যাওয়ায় তথ্যই উঠে আসেনি?
সবচেয়ে বেশি ‘মৃত ভোটারহীন বুথ’ পাওয়া গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এই জেলায় এমন বুথের সংখ্যা ৭৬০। এত সংখ্যক বুথে কোনও মৃত ভোটারের নাম না পাওয়া নিয়ে কমিশনের বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। কারণ, এত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একটিও মৃত্যু না হওয়া পরিসংখ্যানগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই। ফলে আশঙ্কা, হয়তো দীর্ঘদিন ধরেই মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে কাটা হয়নি।
এই বুথগুলিতে আরও একটি অস্বাভাবিক দিক লক্ষ্য করেছে কমিশন। অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম না নেওয়া বা মাঝপথে ফেরত আসার ঘটনাও নেই এখানে। অথচ অন্য জেলা কিংবা ব্লকগুলিতে মৃত ভোটারের নাম বা অসম্পূর্ণ ফর্ম ফেরত পাওয়ার সংখ্যা যথেষ্ট। এই বৈপরীত্য আরও বাড়িয়েছে প্রশ্নের পরিধি।
কমিশন সূত্রের দাবি, এবারকার ব্যাপক এনুমারেশন প্রক্রিয়াতেই ধরা পড়েছে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে তাই বিশেষ নজর দেওয়া হবে এই ২২ জেলার ২২০৮টি বুথে। প্রয়োজন হলে মাঠে নামবে অতিরিক্ত টিম।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, যদি মৃতদের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়, তবে ভোটের দিন তা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে কমিশনের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই তালিকা চূড়ান্ত করার আগে আরও এক দফা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।





