পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়াকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ দিসেরগড় রোডের বেহাল দশা এখন এলাকার মানুষের কাছে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটি জোড়াতালি তো দূর, সামান্য সংস্কারও হয়নি। ফলে প্রতিদিন প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
কুলটির নিয়ামতপুর থেকে শুরু হয়ে দিসেরগড় সেতু পেরিয়ে রাস্তাটি পুরুলিয়া জেলায় ঢুকেছে। নিয়ামতপুর থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তার পিচের আস্তরণ পুরো উঠে গিয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই পথ এখন দুর্ঘটনার আতঙ্কে পূর্ণ। তবুও বিকল্প পথের অভাবে বাধ্য হয়েই মানুষকে এই রাস্তাই ব্যবহার করতে হচ্ছে।
রাস্তাটির দ্রুত মেরামতের দাবিতে বারবার আবেদন করা হলেও কোনও কাজ না হওয়ায় বুধবার পূর্ত দপ্তরের আসানসোল অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ দেখায় কংগ্রেস। ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুকান্ত দাস জানান, প্রতিদিন ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন চুপ করে আছে। সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু না-হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজীব লায়েক ক্ষোভে বলেন, মোটরবাইকে যাতায়াত করা মানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। পুলকার চালক রামলক্ষ্মণ কোইড়ি জানান, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চলতে গেলেই ভয় লাগে—যে কোনও মুহূর্তে গাড়ি উল্টে যেতে পারে।
পুরুলিয়ার আদ্রা থেকেও শোনা যাচ্ছে ক্ষোভের সুর। বাসিন্দা রাহুল লাহিড়ী বলেন, নেহাত প্রয়োজনে না হলে আর কেউ এই রাস্তায় আসানসোলে যেতে চায় না। তিনি জানান, খারাপ রাস্তায় ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে ঝাড়খণ্ড কিংবা বাঁকুড়া ঘুরে যেতে হচ্ছে। আর এক বাসিন্দা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, আসানসোলের রাস্তা কম হলেও সময় লাগে তিনগুণ।
পূর্ত দপ্তরের দাবি, রাস্তাটির দু’পাশে মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এমইডি) জল পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে। খোঁড়াখুঁড়ি চলায় এখনই সংস্কার সম্ভব নয়। যদিও তিন মাস আগে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে, পাইপলাইন পাতার কাজ শেষ হলেই রাস্তাটি নতুন করে সংস্কার শুরু হবে বলে দপ্তরের আশ্বাস।
এদিকে, প্রতিদিন বিপজ্জনক এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন দুই জেলার মানুষ।





