ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগারে বন্দিদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ—মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ। প্লাস্টিকের ব্যাগে খড়কুটো ও মাশরুমের বীজ স্তরে স্তরে সাজিয়ে নিয়মিত জল ছিটিয়ে মাত্র ২০–২১ দিনেই উৎপাদন সম্ভব—এই সহজ পদ্ধতি বোঝানো হচ্ছে বন্দিদের। শুধু তত্ত্ব নয়, হাতে–কলমেও শেখানো হচ্ছে তাদের।
কিন্তু এই প্রশিক্ষণ হঠাৎ কেন? সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের মতে, বন্দিদের অনেকেই বছর পর বছর জেলের ভেতরে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ সাজাপ্রাপ্ত, কেউ বিচারাধীন। তবে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রুজি-রোজগার। বহু সংস্থা প্রাক্তন বন্দিদের কাজে নিতে অনিচ্ছুক। তাই তাঁদের সমাজে ফেরানো এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে নতুন পথ খুঁজছে কারা দপ্তর। তারই ফল এই উদ্যোগ।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের সহযোগিতায় দুই দিনের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণে প্রথম পর্যায়ে অংশ নেন ৫০ জন বন্দি। সংশোধনাগারে মোট বন্দি ২০৫ জন, যার মধ্যে সাতজন মহিলা। পরবর্তী দু’ধাপে আরও বন্দিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য—প্রত্যেক বন্দিকে মাশরুম চাষে দক্ষ করে তোলা।
প্রথম দিনে ছিল থিওরি ক্লাস, দ্বিতীয় দিনে প্র্যাকটিক্যাল। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক তামসী কোলে জানান, ঝিনুক জাতের মাশরুমের চাষ শেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য ১০০টি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগারের সুপার রাজেশকুমার মণ্ডল বলেন, মাশরুম চাষ শিখে বন্দিরা শুধু নিজেরাই স্বনির্ভর হবেন না, ভবিষ্যতে অন্য বন্দিদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।
সংশোধনাগারের এক ঘর পুরোপুরি সাজানো হয়েছে মাশরুম চাষের জন্য। সারা বছর সেখানে উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ চলবে। উৎপাদিত মাশরুম বন্দিদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায়ও রাখা হবে। এর ফলে পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে মুক্তি-উত্তর জীবনে তাঁদের রোজগারের পথও খুলে যাবে বলে আশাবাদী সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।





