বেটিং অ্যাপের প্রচারের জালে জড়িয়ে এবার বড়সড় বিপাকে পড়লেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী ও অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। অবৈধ অনলাইন গেমিং অ্যাপ ‘১এক্স বেট’ মামলার তদন্তে নেমে শুক্রবার কড়া পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মিমি ও অঙ্কুশের পাশাপাশি ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ, রবিন উথাপ্পা এবং বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রউতেলা ও সোনু সুদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে মোট ৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অ্যাটাচ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, সরকারের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরেও জেনেবুঝে এই গেমিং অ্যাপটির হয়ে প্রচার করেছিলেন এই তারকারা। অবৈধ জেনেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বেটিং অ্যাপের প্রচারে যুক্ত থাকার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ। বাজেয়াপ্ত তালিকার মধ্যে বিভিন্ন তারকার ব্যাঙ্কে জমা থাকা নগদ টাকাও রয়েছে। ইডির দাবি, এই সেলিব্রিটিদের চুক্তির টাকা আদতে আর্থিক তছরুপের অংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই এই মামলার তদন্তে গতি এসেছিল। সে সময় দিল্লির সদর দফতরে তলব করা হয়েছিল অঙ্কুশ হাজরাকে। অন্যদিকে উর্বশী রউতেলা এই সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন গোয়েন্দারা।
আর্থিক দুর্নীতি বিরোধী আইন বা পিএমএলএ ধারায় মামলা রুজু করে মোট ২৯ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, একাধিক বেটিং অ্যাপের হয়ে প্রচার চালানোর জন্য এই তারকারা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন। সেই লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখার পরেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ইডি। বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের একঝাঁক মহাতারকার নাম এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। লোকসভা ভোটের আগে থেকেই মিমির নাম এই মামলায় জড়ানো নিয়ে জল্পনা ছিল, যা শুক্রবারের এই পদক্ষেপে সিলমোহর পেল।





